Cart
No products in the cart.

ঘরে নতুন সন্তান আসার পর আমাদের আনন্দের শেষ থাকে না। তবে আনন্দের পাশাপাশি বাবুর সুস্থতার জন্য আমাদের অনেক দিকেই খেয়াল রাখতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো নবজাতক শিশুর ত্বকের যত্ন। বাচ্চার ত্বক এত বেশি নরম ও সেনসিটিভ হয় যে সামান্য অসাবধানতায় র্যাশ, শুষ্কতা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। বাজারে এখন প্রোডাক্টের অভাব নেই। এর মধ্য থেকে কোন বেবি লোশন ভালো বা নবজাতকের জন্য কোন তেল উপযোগী, তা নিয়ে মা বাবারা দ্বিধায় পড়েন।
আমাদের দেশে বাচ্চার ত্বকের যত্নে অনেক প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। সব তো আর ভালো নয়। অনেকে না বুঝেই বাচ্চার শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করে ফেলেন, যা কোমল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ত্বকের যত্ন শীতকালে একটু আলাদা হয়। তাই বাচ্চার কোমল ত্বকের সুরক্ষায় সঠিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বাছাই করা জরুরি। চলুন আজ আমরা জেনে নিই নবজাতকের ত্বকের জন্য কোন ধরনের পণ্য বেছে নেওয়া ভালো এবং কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করা উচিত।
Table of Contents
নবজাতকের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বাছাইয়ের সুবিধার্থে নিচে একটি প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়া হলো। এটি দেখে আপনি অপ্রয়োজনীয় বা ত্বকে জ্বালা করতে পারে এমন পণ্য সহজেই এড়িয়ে চলতে পারবেন।
| বিষয়ের নাম | সঠিক ও নিরাপদ গাইড | যা এড়িয়ে চলা ভালো |
|---|---|---|
| ত্বকের বৈশিষ্ট্য | নবজাতকের ত্বক নরম, সংবেদনশীল এবং এখনও পুরোপুরি পরিণত নয়। | কড়া সাবান, অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা খুব গরম পানি। |
| তেল নির্বাচন | শিশুর উপযোগী ও মৃদু তেল প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়। | নবজাতকের ত্বকে ঝাঁঝালো বা জ্বালা করতে পারে এমন তেল নিয়মিত ব্যবহার করা। |
| লোশন ও ক্রিম | মৃদু, সুগন্ধিবিহীন এবং শিশুর ত্বকের উপযোগী পণ্য বেছে নিন। | তীব্র সুগন্ধিযুক্ত বা ত্বকে জ্বালা করতে পারে এমন পণ্য। |
| পণ্য নির্বাচন | উপাদানের তালিকা দেখে এবং শিশুর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বেছে নিন। | একসঙ্গে অনেক ধরনের পণ্য ব্যবহার করা বা বারবার পণ্য পরিবর্তন করা। |
অনেক নতুন মা বাবাই মনে করেন বড়দের লোশন বা তেল একটু কম পরিমাণে বাচ্চার ত্বকে মাখলে কোনো সমস্যা হবে না। এই ধারণাটি সব সময় ঠিক নয়। নবজাতকের ত্বক এখনও বিকাশের পর্যায়ে এবং বাইরের বিভিন্ন উপাদানের প্রতি বেশি সেনসিটিভ হতে পারে।
ত্বকের ওপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষার স্তর বা ব্যারিয়ার থাকে। বাচ্চার এই সুরক্ষার স্তর ধীরে ধীরে পরিণত হয়। তাই কড়া সাবান, অতিরিক্ত গোসল, বেশি ঘষাঘষি বা ত্বকে জ্বালা করতে পারে এমন পণ্য ব্যবহার করলে শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে নবজাতকের ত্বকে কোনো লোশন বা তেল ব্যবহার করলেই ক্ষতি হবে। বরং শিশুর ত্বকের প্রয়োজন বুঝে মৃদু ও উপযোগী পণ্য নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ।
বাচ্চাদের ত্বক বড়দের তুলনায় পাতলা, নরম ও সেনসিটিভ। জন্মের পর প্রথম দিকের সময়ে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষার স্তরও ধীরে ধীরে পরিণত হয়। তাই এই সময়ে ত্বকের যত্নে খুব বেশি কিছু করার চেয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস এড়িয়ে চলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পাতলা ও নাজুক ত্বকের কারণে খুব গরম পানি, কড়া সাবান বা অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। গোসলের পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি মুছে দিলে অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণও কমে।
শিশুর ত্বকে একজিমা, অস্বাভাবিক র্যাশ বা দীর্ঘস্থায়ী লালচে ভাব থাকলে শুধু পণ্য পরিবর্তন না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাচ্চার স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে বড় বড় লেখা দেখলেই চলবে না। পেছনের ছোট ছোট উপাদানের তালিকায়ও চোখ দিতে হবে। বাচ্চার ত্বকের জন্য পণ্য বাছাই করার সময় মৃদু উপাদান এবং তীব্র সুগন্ধি না থাকা – এসব বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করা ভালো।
আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক পরিবেশ সামান্য অ্যাসিডিক। জন্মের পর বাচ্চাদের ত্বকের পিএইচ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে পরিণত ত্বকের স্বাভাবিক অ্যাসিডিক পরিবেশের দিকে যায়।
তাই শুধু প্যাকেটের গায়ে পিএইচ ৫.৫ ব্যালেন্সড লেখা আছে কি না, সেটিকেই ভালো পণ্য চেনার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং মৃদু, সুগন্ধিবিহীন এবং শিশুর ত্বকের জন্য তৈরি পণ্য বেছে নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কড়া ক্ষারযুক্ত সাবান বা শক্তিশালী ক্লিনজার ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষার স্তরের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
অনেকেই বুঝতে পারেন না লোশন, তেল আর ক্রিমের মধ্যে কোনটি কখন লাগাবেন।
লোশন সাধারণত হালকা ও পাতলা হয়। ত্বক খুব বেশি শুষ্ক না হলে বা গরম আবহাওয়ায় এটি আরামদায়ক হতে পারে।
ক্রিম লোশনের তুলনায় ঘন। বাচ্চার ত্বক বেশি শুষ্ক হলে বা শীতকালে এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশি সহায়তা করতে পারে।
তেল সাধারণত শরীর মালিশের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে আপনার বাবু যদি পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়, তাহলে প্রতিদিন তার পুরো শরীরে তেল বা লোশন লাগানোর কোনো নিয়ম নেই। শিশুর ত্বকের অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাই ভালো।
বাচ্চার পণ্য কেনার সময় কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল করা ভালো।
শুধু “ন্যাচারাল”, “অর্গানিক” বা “বেবি” লেখা আছে বলেই পণ্যটি সবার জন্য উপযুক্ত হবে এমন নয়। উপাদানের তালিকা এবং শিশুর ত্বকের প্রতিক্রিয়া দুটোই বিবেচনা করা উচিত।
বাচ্চার গোসলের আগে বা পরে তেল মালিশ করা আমাদের দেশের একটি চিরচেনা ঐতিহ্য। হালকা হাতে মালিশ শিশুকে আরাম দিতে পারে। তবে সব তেল নবজাতকের নরম ত্বকের জন্য সমান উপযোগী নয়।
শিশুর ত্বকে তেল ব্যবহার করতে চাইলে মৃদু ও শিশুর উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। নারকেল ও সূর্যমুখী তেল নিয়ে বাচ্চাদের ত্বকে ব্যবহারের বিভিন্ন গবেষণা রয়েছে।
কিছু শিশুর ত্বকে নির্দিষ্ট তেল জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই নতুন কোনো তেল ব্যবহার করলে শিশুর ত্বকের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। লালচে ভাব, জ্বালা বা র্যাশ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
আমাদের দেশে দাদী নানীরা বাচ্চার জন্মের পর সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু নবজাতকের ত্বকে সরিষার তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। কিছু গবেষণায় সরিষার তেল ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষার স্তরের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা গেছে।
তাই “সরিষার তেল গরম, তাই বাচ্চার ঠান্ডা লাগবে না” বা “এতে বাচ্চার হাড় শক্ত হবে” এ ধরনের প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে শিশুর ত্বকের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। তেল দিয়ে মালিশ করলে খুব জোরে ঘষবেন না। আলতো হাতে মালিশ করাই ভালো।
মিনারেল অয়েল ত্বকের ওপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই এটিকে সরাসরি ক্ষতিকর বা শিশুর ত্বকের জন্য নিষিদ্ধ বলা ঠিক নয়।
তবে কিছু শিশুর নরম বা নাজুক ত্বকে ভারী ধরনের তেল বা তেলযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে অতিরিক্ত ভারী বা আঠালো অনুভূতি হতে পারে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ধরনের পণ্য শিশুর জন্য অস্বস্তিকরও লাগতে পারে।
ঋতু এবং বাচ্চার ত্বকের শুষ্কতার ওপর নির্ভর করে লোশন বা ক্রিমের ব্যবহার ঠিক করা যায়। ভুল পণ্য ব্যবহার করার চেয়ে ত্বকের প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই ভালো।
গরমের দিনে বা বাচ্চার ত্বক খুব বেশি শুষ্ক না হলে হালকা বেবি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পণ্যটি সুগন্ধিবিহীন এবং শিশুর কোমল ত্বকের জন্য উপযোগী কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।
গরমে বাচ্চার শরীর ঘেমে গেলে অতিরিক্ত লোশন ব্যবহার না করে ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। ত্বক শুষ্ক হলে প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
যখনই বাচ্চার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, তখন সাধারণ লোশনের তুলনায় একটু ঘন বেবি ক্রিম বেশি উপযোগী হতে পারে। বিশেষ করে শীতের দিনে বা শুষ্ক পরিবেশে বাচ্চার গাল, হাত পা বা অন্য শুষ্ক অংশে ক্রিম ব্যবহার করা যায়।
ডক্টরস টিপস: বাচ্চার গোসল শেষ করার পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই, অর্থাৎ হালকা ভেজা অবস্থায় লোশন বা ক্রিম লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার ত্বকের চাহিদাও কিছুটা বদলাতে পারে। তাই সারা বছর একইভাবে বাচ্চার যত্ন নেওয়ার পরিবর্তে আবহাওয়া বুঝে কিছু পরিবর্তন আনা ভালো।
আমাদের দেশে অতিরিক্ত গরমে মায়েরা বাচ্চার গায়ে পাউডার ব্যবহার করেন। কিন্তু পাউডারের সূক্ষ্ম কণা শিশুর নাক মুখের কাছে গেলে শ্বাসের সঙ্গে ভেতরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। তাই শিশুর মুখের কাছে বা বাতাসে উড়ে যেতে পারে এমনভাবে পাউডার ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
গরমে শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় পরাবেন না। হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান এবং ঘাম হলে ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। ত্বক শুষ্ক হলে প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা বেবি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
শীতকালে বাচ্চার ত্বক খুব দ্রুত তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে পারে। এ সময় খুব গরম পানি দিয়ে গোসল না করিয়ে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো।
ত্বক শুষ্ক হলে হালকা লোশনের পরিবর্তে একটু ঘন বেবি ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে বাচ্চার গাল, হাত পা, কনুই বা হাঁটুর মতো শুষ্ক অংশে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রিম লাগান।
শীতের ঠান্ডা বাতাসে বাচ্চার চামড়া অতিরিক্ত শুষ্ক বা ফেটে গেলে শুধু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বাচ্চার স্কিন কেয়ার নিয়ে আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু কুসংস্কার রয়েছে। এগুলো না জানলে কখনো কখনো বাচ্চার কোমল ত্বকে অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়তে পারে।
অনেক মা ভাবেন বাচ্চার গায়ের রং ফর্সা করার জন্য কাঁচা হলুদ, বেসন বা ঘরোয়া উবটান ঘষে মাখানো উচিত। এটি করার কোনো প্রয়োজন নেই।
নবজাতকের ত্বকে কাঁচা হলুদ, বেসন বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান ঘষে ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা বা irritation হতে পারে। বিশেষ করে ত্বক যদি সেনসিটিভ হয়, তাহলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
মনে রাখবেন, বাচ্চার গায়ের প্রাকৃতিক রংই তার স্বাভাবিক রং। ফর্সা করার জন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান বা স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করার দরকার নেই।
বাচ্চার চোখ বড় করার জন্য বা নজর লাগা থেকে বাঁচাতে চোখে ও কপালে কাজল দেওয়ার দেশি অভ্যাস আমাদের ঘরে ঘরে দেখা যায়। কিছু ঐতিহ্যবাহী কাজল বা চোখের প্রসাধনীতে সীসা বা লেড থাকতে পারে, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই শিশুর চোখের আশপাশে অজানা বা ঐতিহ্যবাহী কাজল ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
একইভাবে বাচ্চার মাথায় অতিরিক্ত তেল জমিয়ে রাখা বা খুব জোরে তেল মালিশ করারও প্রয়োজন নেই। মাথার ত্বকে লালচে ভাব, খোসা বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বেবি স্কিন কেয়ার নিয়ে নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে কিছু পণ্য ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। আমার নিজের সন্তানের জন্য Kodomo এর কয়েকটি বেবি কেয়ার পণ্য ব্যবহার করে আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ সন্তুষ্ট হয়েছি। পাশাপাশি Dabur Baby Oil ব্যবহার করেও ভালো ফল পেয়েছি।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, একটি পণ্য আমার সন্তানের ত্বকে ভালো মানিয়েছে বলেই সেটি অন্য সব শিশুর ত্বকেও একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি শিশুর ত্বক আলাদা। তাই নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া এবং শিশুর ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না, তা লক্ষ্য করা ভালো।
নবজাতকের ত্বকের যত্ন নিয়ে নতুন মা বাবাদের মনে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন ঘোরে। এখানে সেই প্রশ্নগুলোর সরাসরি ও সহজ উত্তর দেওয়া হলো।
বাচ্চা জন্মের কত দিন পর থেকে লোশন বা তেল ব্যবহার করা যায়?
সুস্থ পূর্ণমেয়াদি বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রতিদিন সারা শরীরে লোশন, ক্রিম বা তেল ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। WHO ও সুস্থ পূর্ণমেয়াদি নবজাতকের ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত সারা শরীরে তেল বা অন্যান্য আর্দ্রতা ধরে রাখার পণ্য ব্যবহারের সুপারিশ করে না।
তবে শিশুর ত্বক শুষ্ক হলে বা কোনো নির্দিষ্ট কারণে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন হলে শিশুর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রিম্যাচিউর বা কম ওজনের শিশুর ত্বকের যত্নের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বাচ্চার গায়ে কি খাঁটি সরিষার তেল মাখা একদমই মানা?
নবজাতকের ত্বকে সরিষার তেল নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো। কিছু গবেষণায় সরিষার তেল ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষার স্তরের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা গেছে। তাই মালিশের জন্য অন্য মৃদু ও শিশুর উপযোগী তেল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেছে নেওয়া যেতে পারে।
বেবি লোশন নাকি তেল – কোনটি আগে লাগাতে হয়?
দুটির কাজ এক নয়। তেল সাধারণত শরীর মালিশের জন্য ব্যবহার করা হয়, আর লোশন বা ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয়।
তবে দুটোই একসঙ্গে ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
নবজাতকের ত্বকে কোন ধরনের লোশন ভালো?
সাধারণভাবে মৃদু, সুগন্ধিবিহীন এবং শিশুর নরম ত্বকের উপযোগী লোশন বেছে নেওয়া ভালো। খুব বেশি সুগন্ধি বা অপ্রয়োজনীয় উপাদানযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা সুবিধাজনক।
বাচ্চার ত্বক খুব শুষ্ক হলে লোশন নাকি ক্রিম ব্যবহার করব?
ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হলে লোশনের তুলনায় ঘন ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশি সাহায্য করতে পারে।
হেলথ ও মেডিকেল ডিসক্লেইমার: আমাদের এই তথ্যগুলো কেবল সাধারণ স্কিন কেয়ার সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত। এটি কোনো ডার্মাটোলজিস্ট বা শিশু বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। বাচ্চার ত্বকে কোনো প্রকার একজিমা, দীর্ঘস্থায়ী লালচে ভাব, অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি, ফোসকা, ক্ষত, পুঁজ বা ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ঘরোয়া উপাদান বা নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে একজন নিবন্ধিত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
একটি নবজাতক শিশুর ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেশি বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পণ্য ও সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া।
বাচ্চার ত্বক স্বাভাবিক থাকলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক ধরনের লোশন, তেল, ক্রিম বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার দরকার নেই। গোসলের সময় কড়া সাবান ও অতিরিক্ত ঘষাঘষি এড়িয়ে চলুন। ত্বক শুষ্ক হলে মৃদু ও সুগন্ধিবিহীন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের পর লালচে ভাব, জ্বালা বা র্যাশ দেখা দিলে সেটি বন্ধ করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনার ছোট্ট বাবুর কোমল ত্বকের যত্নে তাই কম কিন্তু সঠিক পণ্য, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ – এই তিনটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
