Cart
No products in the cart.

সচেতন মা বাবারা প্রতিনিয়ত বাচ্চাদের ইনডোর গেমস আইডিয়া নিয়ে ভাবছেন, যেন ঘরের সীমিত পরিসরেও সন্তানকে সক্রিয় রাখা যায়। কারণ বর্ষার অবিরাম বৃষ্টি, গ্রীষ্মের তীব্র গরম কিংবা শহুরে পরিবেশে পর্যাপ্ত মাঠের অভাব, সব কিছু মিলে বর্তমানে আমাদের দেশের বাচ্চারা চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়ছে।
বাইরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি করার সুযোগ না থাকায় একঘেয়েমি থেকে তাদের মোবাইল, টিভি বা ট্যাবের মতো ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রতি আসক্তি অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ঘরে আটকে থাকার ফলে শিশুদের মেজাজ খিটখিটে হওয়া, জেদ ধরা এবং যেকোনো কাজে তাদের মনোযোগের ক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই মনে করেন ইনডোর গেমস মানে কেবল অলসভাবে সময় কাটানোর উপায়।
কিন্তু বিজ্ঞান বলে, সঠিক ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ইনডোর অ্যাক্টিভিটি ঘরের সীমিত জায়গার মধ্যেও বাচ্চার ফুল বডি অ্যাক্টিভিটি ও ব্রেন স্টিমুলেশনের অন্যতম সেরা মাধ্যম হতে পারে। তাই ঘরের ভেতরে খেলাধুলার মাধ্যমে কীভাবে বাচ্চার মানসিক জড়তা কাটানো যায় এবং তাদের শারীরিক সক্ষমতা সচল রাখা যায়, সেই বৈজ্ঞানিক উপায়গুলো জানা প্রতিটি মা বাবার জন্য খুবই জরুরি।
Table of Contents
ঝটপট ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য নিচের চার্টটি দেখে নিতে পারেন। এখানে শিশুর বয়স এবং স্থান অনুযায়ী সেরা ইনডোর গেমসের ধরন ও স্কিল বেনিফিটের একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা তুলে ধরা হলো।
| বয়স | ইনডোর গেমের ধরন | ইনডোর টয়/টুলস | সুফল |
| ১ থেকে ৩ বছর (টডলার) | টেক্সচার সার্চ ও অবস্ট্যাকল কোর্স | সফট প্লে ম্যাট, লিভিং রুমের নরম কুশন | মটর স্কিল, ব্যালেন্সিং এবং শরীরের পেশি মজবুত করা। |
| ৩ থেকে ৫ বছর (প্রিস্কুলার) | হিডেন ট্রেজার হান্ট ও কালার সর্টিং | ম্যাগনেটিক পাজল, আর্ট ও ক্রাফট কিট | কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি ও প্রবলেম সলভিং স্কিল তৈরি। |
| ৫ বছরের বেশি | লজিক পাজল ও ইনডোর বোর্ড গেম | বিল্ডিং ব্লকস, মেমোরি ম্যাচিং গেম | স্ট্র্যাটেজিক থিংকিং, একাগ্রতা ও সামাজিক দক্ষতা অর্জন। |
বাচ্চাদের ইনডোর গেমস আইডিয়া গুলো কেবল ঘরোয়া বিনোদন নয়, এগুলো শিশুর মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করার ভালো মাধ্যম।
ঘরে বসে করা বিভিন্ন অ্যাক্টিভ গেমস শিশুর গ্রস ও ফাইন মটর স্কিল উন্নত করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। যখন একটি শিশু ঘরের মেঝেতে কুশন ডিঙিয়ে পার হয় বা এক পায়ে ভারসাম্য বজায় রাখার খেলা খেলে, তখন তার বড় পেশিগুলো শক্তিশালী হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বা শারীরিক কসরতের ফলে শিশুর মস্তিষ্কে ডোপামিন ও এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চার মানসিক উদ্দীপনা তৈরি করে, মেজাজ ফুরফুরে রাখে এবং রাতে গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
বাচ্চাদের বুদ্ধির খেলা গুলো শিশুদের চিন্তা করার পরিধি বাড়িয়ে দেয়। ঘরে বাচ্চাদের খেলার উপায় হিসেবে যখন কোনো লুকানো জিনিস খোঁজার বা পাজল মেলানোর টাস্ক দেওয়া হয়, তখন বাচ্চার কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় বিকাশ ঘটে।
সে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে বিকল্প রাস্তা খুঁজতে শেখে। এই ধরণের অ্যাক্টিভ প্লে বাচ্চার কল্পনাশক্তিকে ডানা মেলতে সাহায্য করে, যা মোবাইলের তৈরি অ্যানিমেশন দেখার মাধ্যমে কখনো সম্ভব নয়।
পারিবারিকভাবে একসাথে ইনডোর গেমস খেললে শিশুর আবেগীয় ভারসাম্য তৈরি হয়। খেলায় হার জিত মেনে নেওয়ার মাধ্যমে বাচ্চার ধৈর্য ও সহনশীলতা বাড়ে। সমবয়সী ভাইবোন বা মা বাবার সাথে খেলার সময় শিশুরা একে অপরকে সাহায্য করা, নিয়ম মেনে চলা এবং নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গুণাবলী অর্জন করে, যা পরবর্তীতে তাদের বাস্তব জীবনে একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হতে সাহায্য করে।
কাজের ফাঁকে যখনই একটু সময় পাই, আমি আমার মেয়ে রুফাইদাহর সাথে লুকোচুরি খেলি। বিশ্বাস করুন, ঘরের ভেতর এত কম সময়ে বাচ্চার মুড ভালো করার জন্য এর চেয়ে দারুণ ইনডোর গেম আর হতে পারে না! আমি যখন খাটের কোণায় বা পর্দার আড়ালে লুকাই, আর রুফাইদাহ আমাকে খুঁজতে এসে খিলখিল করে হেসে ওঠে, তখন সারাদিনের সব ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়।
টাকা খরচ করে দামি খেলনা কেনার চেয়ে বাচ্চার সাথে কাটানো এই কোয়ালিটি টাইমটাই তার মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার। আপনিও আপনার কাজের ফাঁকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের জন্য বাচ্চার সাথে এই চেনা খেলাটি খেলে দেখতে পারেন। এটি শুধু বাচ্চার শরীর চর্চায় সাহায্য করে না, বরং মা বাবার সাথে বাচ্চার সম্পর্ককেও অনেক বেশি মজবুত করে তোলে।
ঘরে বসেই আনন্দ ও শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটাতে আমাদের এই বিশেষ ইনডোর গেমস তালিকা আপনাকে দারুণভাবে সাহায্য করবে। নিচে ১৫টিরও বেশি খেলার আইডিয়াকে ৪টি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যা আপনার বাচ্চার একঘেয়েমি কাটাতে কাজ করবে।
ছোট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে যেখানে দৌড়ানোর জায়গা কম, সেখানে এই খেলাগুলো বাচ্চার শরীরের জমানো এনার্জি খরচ করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে বাচ্চাদের ইনডোর গেম হিসেবে এগুলো দারুণ জনপ্রিয়।
বাচ্চার স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও লজিক্যাল থিংকিংকে বাড়াতে এই খেলাগুলো দারুণ কার্যকর। এগুলোকে আমরা বাচ্চাদের বুদ্ধির খেলা বলতে পারি।
শিশুর হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশি মজবুত করতে এবং তার ভেতরের শৈল্পিক গুণাবলী ফুটিয়ে তুলতে এই টডলার অ্যাক্টিভিটি আইডিয়া গুলো দারুণ উপযোগী।
পরিবারের সবাই মিলে একসাথে সময় কাটানো এবং বাচ্চার সামাজিক মেলামেশার দক্ষতা বাড়াতে এই খেলাগুলোর কোনো বিকল্প নেই।
বাইরের মাঠের তুলনায় ঘর অনেক বেশি সংকুচিত হয়। তাই ঘরে বাচ্চাদের খেলার পরিবেশ তৈরি করার সময় তাদের শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের দেশের বাসাবাড়ির সোফা, খাট বা ডাইনিং টেবিলের কোণগুলো সাধারণত বেশ ধারালো কাঠের বা মেটালের হয়ে থাকে। দৌড়াদৌড়ি বা ব্যালেন্সিং গেম খেলার সময় বাচ্চা যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই কোণগুলোতে চোট পেতে পারে। তাই ফার্নিচারের ধারালো কোণগুলোতে সফট সিলিকন কর্নার গার্ড বা ফোম প্যাড লাগিয়ে লক করে দেওয়া উচিত। ঘরের কাঁচের তৈরি শোপিস বা ধারালো জিনিস বাচ্চার নাগালের বাইরে রাখুন।
টাইলসের মসৃণ মেঝেতে বাচ্চারা মোজা পরে বা খালি পায়ে দৌড়াতে গেলে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের শক্ত খেলনা মেঝেতে পড়ে থাকলে তাতে পাড়া দিয়ে বাচ্চার পা মচকে যেতে পারে। এই দুর্ঘটনা এড়াতে খেলার জোনে হাই কোয়ালিটি নন স্লিপ ইভিএ ফোম ম্যাট বা সফট প্লে ম্যাট বিছিয়ে দেওয়া আবশ্যক। এটি বাচ্চার পড়ে যাওয়ার আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়।
ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে বাচ্চারা মেঝেতে বেশি লাফালাফি করলে নিচের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীদের অসুবিধা হতে পারে, যা শহুরে জীবনের একটি বড় সমস্যা। শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাচ্চার লাফানোর জায়গার নিচে একটি মোটা কার্পেট বা রাবার প্লে ম্যাট বিছিয়ে দিন। তাছাড়া অতিরিক্ত চিৎকার চেঁচামেচির খেলাগুলো দুপুরের দিকে না খেলে বিকেলের নির্দিষ্ট সময়ে খেলানোই ভালো।
ইনডোর গেমসের আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনাবশত আতঙ্কে রূপ না নেয়, তার জন্য নিচের সেফটি গাইডলাইনটি কঠোরভাবে মেনে চলুন।
সেফটি অ্যালার্ট: ঘরে খেলার সময় খেয়াল রাখুন যেন আসবাবপত্রের ধারালো কোণ, ঝুলন্ত জানালার পর্দা বা কাঁচের জিনিস শিশুর নাগালের বাইরে থাকে। ৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে ছোট পার্টসযুক্ত পাজল, ম্যাগনেটিক বল বা মার্বেল একা খেলতে দেবেন না, যাতে তা মুখে দিয়ে গিলে ফেলা বা দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি না থাকে। খেলনার ব্যাটারি কভার স্ক্রু দিয়ে লক করা আছে কি না তা সবসময় যাচাই করুন।
ইউরোপ বা উন্নত বিশ্বে শিশুদের ঘরোয়া খেলাধুলাকে তাদের মেধা বিকাশের একটি নিয়মতান্ত্রিক অংশ হিসেবে দেখা হয়। তবে আমাদের দেশের শহুরে প্যারেন্টিংয়ে এই চিত্রে একটি বড় ভুল অভ্যাস লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাদেশে অনেক মা বাবা সন্তানকে ঘরে রাখার সহজ উপায় হিসেবে তাদের ট্যাবে বা টিভিতে গেম খেলতে দেন, কিংবা মোবাইলে কার্টুন বা ইউটিউব ভিডিও চালিয়ে দেন। তারা মনে করেন বাচ্চা তো ঘরে বসে গেম খেলছে, এটাই হয়তো এক ধরণের ইনডোর গেম। এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা।
মোবাইল বা ট্যাবের এই প্যাসিভ ডিজিটাল স্ক্রিন গেমগুলো বাচ্চার মস্তিস্ককে কৃত্রিমভাবে উত্তেজিত রাখে, কিন্তু তার নিজের চিন্তা করার বা হাত পা নাড়ানোর কোনো সুযোগ দেয় না। এর ফলে শিশুর শারীরিক জড়তা বাড়ে এবং বাস্তব জীবনে মানুষের সাথে মেলামেশার ক্ষমতা কমে যায়।
বাস্তব ও খেলনা ভিত্তিক বাচ্চাদের ইনডোর গেমস আইডিয়া তখনই সফল হয়, যখন সেখানে মা বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ বা পেরেন্টাল ইনভলভমেন্ট থাকে। অনেকেই বাচ্চাকে শুধু এক গাদা খেলনা কিনে দিয়ে দূরে বসে থাকেন, যা বাচ্চার একঘেয়েমি বাড়িয়ে দেয়।
খেলনা কেবল বিনোদন নয়, এটি শৈশবেই বাচ্চার মেধার ভিত্তি গড়ার সবচেয়ে সেরা উপায়। মা বা বাবা যখন নিজে বাচ্চার সাথে মেঝেতে বসে পিলো অবস্ট্যাকল কোর্স তৈরি করেন বা পাজল মেলান, তখন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস ও মনোযোগের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি শিশুকে ডিজিটাল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে প্রাকৃতিকভাবে দূরে রাখে।
ঘরে বসে বাচ্চাদের খেলাধুলা এবং মেধা বিকাশ নিয়ে মা বাবাদের মনে প্রতিনিয়ত যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়, তার সরাসরি উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন ১: ছোট ঘরে বা ফ্ল্যাট বাড়িতে কীভাবে ইনডোর গেমস খেলানো সম্ভব?
উত্তর: ছোট ঘরের জন্য বড় কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। লিভিং রুমের মেঝেতে রঙিন টেপ দিয়ে এক্কা দোক্কা এঁকে নেওয়া যায়, কিংবা সোফার কুশন দিয়ে পিলো অবস্ট্যাকল কোর্স তৈরি করা যায়। এছাড়া উডেন পাজল বা কালার সর্টিং গেমের জন্য খুব সামান্য জায়গার দরকার হয়।
প্রশ্ন ২: কত বয়স থেকে শিশুকে ইনডোর লজিক বা বোর্ড গেম দেওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত ৩ বছর বয়স থেকে শিশুকে সহজ ইনডোর বোর্ড বা লজিক গেম দেওয়া শুরু করা যায়। এই বয়সে তারা নিয়ম মানা এবং রঙের বা অক্ষরের মিল খোঁজা বুঝতে পারে। ৫ বছরের বেশি বাচ্চাদের জন্য মেমোরি ম্যাচিং কার্ড গেম বা ডমিনো ট্র্যাকিং দারুণ কার্যকরী।
প্রশ্ন ৩: ইনডোর গেমসে বাচ্চার আকর্ষণ ধরে রাখার উপায় কী?
উত্তর: বাচ্চার আকর্ষণ ধরে রাখার সেরা উপায় হলো ‘টয় রোটেশন’ পদ্ধতি। সব খেলনা একসাথে বাচ্চার সামনে না দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ২-৩ টি বদলে বদলে দিন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, খেলায় মা বাবা নিজেরা অংশ নিলে বাচ্চার সেই খেলার প্রতি আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে যায়।
অযথা মোবাইল বা ইউটিউবের স্ক্রিনে সময় না দিয়ে শিশুকে খেলনা ও শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে খেলতে ও শিখতে উৎসাহিত করুন। সঠিক খেলনা ও ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি তার চিন্তাশক্তি, শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। উপরের ইনডোর গেমস ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে শিশুর খেলার সময়কে আরও আনন্দময় ও শিক্ষণীয় করে তুলুন।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
