Cart
No products in the cart.

৬ মাস বয়সটি প্রতিটি শিশুর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এই সময়ে অনেক শিশু সহায়তা নিয়ে বসতে শেখে, দুই হাতে কিছু ধরতে পারে এবং চারপাশের জিনিস হাত দিয়ে ছুঁয়ে ও মুখে নিয়ে পরীক্ষা করতে চায়। এই বিশেষ বয়সে সচেতন মা বাবারা ৬ মাসের বাচ্চার খেলনা নিয়ে চিন্তা করেন, যেন বয়সের উপযোগী খেলনার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করা যায়।
তবে এই সময়ে খেলনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মা বাবাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ছোট বা সহজে খুলে যায় এমন অংশ থাকা খেলনা মুখে নেওয়ার কারণে গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ৬ মাসের শিশুর খেলার সামগ্রী যেন সহজে ধরা যায়, বয়সের উপযোগী হয় এবং নিরাপদে মুখে নেওয়া যায় সে বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রতিটি নতুন মা বাবার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
Table of Contents
ঝটপট ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য ৬ মাসের শিশুর বিকাশের সঙ্গে মিল রেখে খেলনার ধরন ও মূল সতর্কতার একটি সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন তুলে ধরা হলো।
| বিকাশের দিক | উপযোগী খেলনার ধরন | উপাদান ও নিরাপত্তা |
|---|---|---|
| দাঁত ওঠার অস্বস্তি | সলিড টিথার / টিথিং রিং | মজবুত, শিশুর জন্য উপযোগী উপাদান, কোনো অংশ খুলে যাওয়ার ঝুঁকি নেই |
| হাত ও চোখের সমন্বয় | গ্রাসপিং বল / র্যাটল | মসৃণ প্রান্ত, সহজে ধরা যায় এবং ছোট অংশ নেই |
| ইন্দ্রিয় ও শব্দের অভিজ্ঞতা | নরম কাপড়ের বই / সহজ শব্দের খেলনা | বয়স উপযোগী, মজবুত এবং আলগা সুতা বা অংশ নেই |
| নড়াচড়া ও খেলা | প্লে ম্যাট / বয়স উপযোগী অ্যাক্টিভিটি খেলনা | সমতল ও নিরাপদ জায়গায় ব্যবহার |
৬ মাস বয়সে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। খেলনা শিশুর বিকাশ সরাসরি বাড়িয়ে দেয় এমন নয়, বরং বয়স উপযোগী খেলনা শিশুকে হাত দিয়ে কাজ করা, শব্দ লক্ষ্য করা, নড়াচড়া করা এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ দেয়।
এই বয়সে শিশুরা কোনো বস্তু ধরতে এবং এক হাত থেকে অন্য হাতে নিতে শেখে। তাদের হাত ও আঙুলের নড়াচড়া আরও সমন্বিত হতে শুরু করে। যখন শিশুকে হালকা এবং সহজে ধরা যায় এমন খেলনা দেওয়া হয়, তখন সে সেটি বারবার ধরার, নাড়ানোর বা মুখের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এই ধরনের খেলার মাধ্যমে শিশুর হাতের নড়াচড়া ও হাত-চোখের সমন্বয় অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাজ শেখার জন্য এই দক্ষতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
৬ মাস বয়সে শিশুর চারপাশের মানুষ ও জিনিসের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। সে পরিচিত শব্দের দিকে তাকাতে পারে এবং কোনো খেলনা বা বস্তুর দিকে হাত বাড়াতে পারে।
ঝুনঝুনির হালকা আওয়াজ এবং সহজ, আকর্ষণীয় রঙের খেলনা শিশুকে দেখতে, শুনতে এবং হাত দিয়ে অনুসন্ধান করতে উৎসাহ দিতে পারে। এটি ৬ মাসের শিশুর বুদ্ধির বিকাশে খেলনা গুলোর অন্যতম উপকারী দিক। শিশু যখন হাত নাড়ালে খেলনা থেকে শব্দ হয়, তখন সে নিজের কাজের সঙ্গে খেলনার প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক বুঝতে শুরু করতে পারে।
৬ মাস বয়সী শিশুর জন্য এমন খেলনা বেছে নেওয়া উচিত যা তার বয়স ও দক্ষতার সঙ্গে মানানসই এবং একই সঙ্গে নিরাপদ। এই বয়সের উপযোগী ৫টি সেরা ক্যাটাগরি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
৬ মাস বয়সের আশেপাশে অনেক শিশুর দাঁত ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ সময় মাড়িতে অস্বস্তি হওয়ায় শিশু হাতের কাছে যা পায় তা মুখে দিতে চাইতে পারে। এই অস্বস্তির সময় বয়স উপযোগী টিথিং টয় শিশুকে নিরাপদভাবে কিছু চিবানোর সুযোগ দিতে পারে।
টিথার বেছে নেওয়ার সময় মজবুত, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং কোনো অংশ খুলে যাওয়ার ঝুঁকি নেই এমন পণ্য বেছে নিন। শুধু “ফুড গ্রেড”, “বিপিএ ফ্রি” বা কোনো একটি উপাদানের নাম দেখেই খেলনাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত নয়। পণ্যের বয়সসীমা, প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা এবং গুণমানও দেখতে হবে।
খুব শক্ত বা জমাট বরফের মতো ঠান্ডা টিথার শিশুর মাড়িতে ব্যবহার না করাই ভালো। টিথার কীভাবে ঠান্ডা বা পরিষ্কার করতে হবে, সে বিষয়ে পণ্যের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
হালকা ওজনের ঝুনঝুনি বা র্যাটল এই বয়সের বাচ্চাদের পরিচিত খেলার সামগ্রী। বাচ্চা যখন এটি হাত দিয়ে নাড়ায়, তখন শব্দ শুনে আবার নাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। এতে তার ধরার ক্ষমতা এবং হাত-চোখের সমন্বয় অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে খেয়াল রাখবেন, র্যাটেলটি যেন শিশুর বয়সের উপযোগী হয় এবং এর কোনো অংশ আলগা হয়ে খুলে না আসে। ভাঙা বা ফাটলযুক্ত র্যাটল কখনো শিশুকে দেবেন না।
বিভিন্ন ধরনের খাঁজ, ডট বা উঁচু নিচু টেক্সচার থাকা নরম বল ৬ মাসের শিশুকে হাত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পৃষ্ঠ অনুভব করার সুযোগ দিতে পারে। বাচ্চা যখন বলটি হাতে ছোঁয় বা ধরে, তখন সে এর আকৃতি ও পৃষ্ঠ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করে।
খেলনাটি এমন হওয়া উচিত যা শিশুর জন্য সহজে ধরা যায় এবং কোনো ছোট অংশ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। খুব ছোট বল বা সহজে মুখে পুরোপুরি ঢুকে যেতে পারে এমন খেলনা এড়িয়ে চলুন।
বাচ্চাকে জেগে থাকা অবস্থায় উপুড় করে শোয়ানো বা টামি টাইম দেওয়ার জন্য নিরাপদ, সমতল প্লে ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। বেবি জিমে বিভিন্ন ঝুলন্ত খেলনা থাকতে পারে, যা শিশুকে হাত বাড়িয়ে ধরতে উৎসাহিত করে।
তবে ঝুলন্ত খেলনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স ও নিরাপত্তার নির্দেশনা অবশ্যই মানতে হবে। শিশু যখন নিজেকে হাত পা দিয়ে তুলতে শুরু করে বা খেলনা টেনে ধরার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়, তখন তার নাগালের মধ্যে ঝুলন্ত খেলনা রাখা নিরাপদ নাও হতে পারে। ঘুমের সময় বেবি জিম বা ঝুলন্ত খেলনা শিশুর ঘুমের জায়গায় রেখে দেবেন না।
কাপড়ের তৈরি বই ৬ মাসের শিশুকে বইয়ের ছবি ও পৃষ্ঠা ছোঁয়ার সুযোগ দিতে পারে। এই বয়সে শিশু বইয়ের পাতা ছুঁতে, ধরতে এবং কখনো মুখেও নিতে চাইতে পারে। তাই বইটি শক্তভাবে সেলাই করা, ধোয়া যায় এবং আলগা সুতা বা ছোট অংশমুক্ত হওয়া উচিত।
বয়স উপযোগী অ্যাক্টিভিটি খেলনাও শিশুকে বোতাম চাপা, স্পর্শ করা বা শব্দ শোনার মাধ্যমে খেলতে উৎসাহ দিতে পারে। তবে খেলনায় ছোট খুলে যাওয়ার মতো অংশ, সহজে বের হয়ে আসা ব্যাটারি বা ধারালো প্রান্ত থাকা যাবে না।
৬ মাস বয়সের আশেপাশে দাঁত ওঠার সময় অনেক শিশুর লালা ঝরা ও মাড়িতে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ সময় শিশুর মুখ পরিষ্কার রাখা এবং নিরাপদ টিথিং সামগ্রী ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারে পানিতে ভরা বা তরল ভর্তি নরম টিথার পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফেটে যাওয়া, ফুটো হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। তাই তরল ভর্তি টিথারের বদলে মজবুত, নিরেট এবং বয়স উপযোগী টিথিং সামগ্রী বেছে নেওয়া সহজ ও নিরাপদ পছন্দ হতে পারে।
টিথার ব্যবহারের আগে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ফাটল, ছিদ্র বা কোনো অংশ খুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে সেটি শিশুকে দেবেন না। টিথার ঠান্ডা করার প্রয়োজন হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
একটি ভালো টিথার শিশুর ছোট হাত দিয়ে সহজে ধরা যায় এমন হওয়া উচিত। হালকা টেক্সচার থাকলে শিশু মাড়ি ও মুখের মাধ্যমে টিথারটি অনুভব করতে পারে।
তবে টিথারের গায়ে ছোট অংশ, সহজে খুলে যায় এমন উপাদান বা ধারালো প্রান্ত থাকা যাবে না। ব্যবহারের আগে প্রতিবার টিথারটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাচ্চার খেলনা কেনার সময় কিছু সাধারণ ভুল শিশুর নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গ্রামের মেলা, ফুটপাত বা রাস্তার ভ্যান থেকে কম দামে রঙচঙে প্লাস্টিকের খেলনা কেনার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শুধু সস্তা বলেই কোনো খেলনা বিষাক্ত এমন নয়। তবে অজানা উৎসের খেলনায় উপাদান, বয়সসীমা বা প্রস্তুতকারকের নিরাপত্তা তথ্য নাও থাকতে পারে।
৬ মাসের শিশু খেলনা মুখে নেওয়ার কারণে খেলনা বাছাইয়ের সময় মজবুত, বয়স উপযোগী এবং পরিষ্কার করা যায় এমন পণ্য বেছে নিন। খেলনার রং উঠে আসছে, প্লাস্টিক ফেটে যাচ্ছে বা কোনো অংশ খুলে যাচ্ছে কি না তাও পরীক্ষা করুন।
অনেকে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে পুরনো বা ঘরের কোণায় ধুলো জমে থাকা নরম কাপড়ের পুতুল শিশুকে দিয়ে দেন। কিন্তু ৬ মাসের শিশু যেহেতু খেলনা মুখে নিতে পারে, তাই নোংরা বা ঠিকমতো পরিষ্কার করা যায় না এমন কাপড়ের খেলনা না দেওয়াই ভালো।
তাছাড়া কোনো সফট টয়ের সেলাই খুলে গেলে বা ভেতরের ভরাট উপাদান বাইরে বের হয়ে এলে সেটি শিশুর নাগালের বাইরে সরিয়ে রাখুন। খেলনা ছিঁড়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামত করার চেয়ে নিরাপদভাবে বাদ দেওয়া অনেক সময় ভালো সিদ্ধান্ত।
এই বয়সে শিশুরা চোখের সামনে থাকা ও লুকিয়ে যাওয়া জিনিসের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করতে পারে। তবে অবজেক্ট পারমানেন্স বা কোনো বস্তু চোখের আড়াল হলেও সেটি আছে, এই ধারণাটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং সব শিশুর ক্ষেত্রে একই সময়ে আসে না।
৬ মাসের শিশুর সঙ্গে কাপড়ের বই, ফ্লিপ বই বা সহজ লুকোচুরি খেলা করা যায়। আপনি যখন বাচ্চার সামনে কোনো খেলনা আংশিকভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন এবং সে সেটি খুঁজে দেখার চেষ্টা করে, তখন সে দেখতে, মনে রাখতে এবং অনুসন্ধান করতে শেখার সুযোগ পায়।
এ ধরনের খেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মা বাবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। আপনার মুখ, কণ্ঠস্বর ও প্রতিক্রিয়াও শিশুর শেখার অভিজ্ঞতার অংশ।
বাচ্চা যখন তার হাত থেকে কোনো ঝুনঝুনি মেঝেতে ফেলে দেয় এবং সেটি নিচে পড়ার পর শব্দ হয়, তখন সে বারবার এই কাজটি করতে চাইতে পারে। এটি শুধু দুষ্টুমি নয়, খেলনার নড়াচড়া বা শব্দের সঙ্গে নিজের কাজের সম্পর্ক বোঝার একটি স্বাভাবিক খেলার অভিজ্ঞতা হতে পারে।
তাই নিরাপদ পরিস্থিতিতে শিশুকে এমন খেলনা দেওয়া যেতে পারে, যেগুলো নাড়ালে, চাপ দিলে বা সরালে সহজ কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
মা বাবাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: ৬ মাসের শিশু সব কিছু মুখে দিতে পারে। তাই খেলনা কেনার আগে তা বয়সের উপযোগী কি না, সহজে ধোয়া যায় কি না এবং কোনো ছোট বা আলগা অংশ আছে কি না দেখে নিন। টিথার ও প্লাস্টিক খেলনা পরিষ্কার করার সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ছোট ব্যাটারি, ধারালো কোণ, আলগা সুতা বা সহজে খুলে যায় এমন অংশ থাকা খেলনা এড়িয়ে চলুন। খেলনা নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় শিশুর হাতে দেবেন না।
যেহেতু ৬ মাসের শিশু অনেক খেলনা মুখে দেয়, তাই নিয়মিত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি খেলনা একইভাবে ধোয়া বা জীবাণুমুক্ত করা যায় না। খেলনার উপাদান ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করাই সবচেয়ে ভালো।
সিলিকন টিথার বা প্লাস্টিকের র্যাটল পরিষ্কার করার আগে পণ্যের নির্দেশনা দেখে নিন। সাধারণভাবে মৃদু সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খেলনার ভাঁজ বা খাঁজ থেকে ময়লা সরানো যায়।
ধোয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। কোনো খেলনার ভেতরে পানি ঢুকে গেলে সেটি পুরোপুরি শুকানো সম্ভব কি না নিশ্চিত করুন। খেলনায় ফাটল বা ক্ষতি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
কাপড়ের বই বা সফট টয় পরিষ্কার করার সময় পণ্যের ধোয়ার নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ধোয়ার পর খেলনাটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া জরুরি, কারণ ভেজা অবস্থায় দীর্ঘ সময় রেখে দিলে দুর্গন্ধ বা ছত্রাকের সমস্যা হতে পারে।
৬ মাসের শিশুর খেলনা ও টিথার কেনা নিয়ে মা বাবাদের মনে যে প্রশ্নগুলো থাকে, তার সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন ১: ৬ মাসের বাচ্চার জন্য সিলিকন টিথার কি পুরোপুরি নিরাপদ?
উত্তর: বয়স উপযোগী, মজবুত এবং সহজে খুলে যায় না এমন টিথার বেছে নিন। ব্যবহারের আগে প্রতিবার ফাটল, ছিদ্র বা আলগা অংশ আছে কি না পরীক্ষা করুন এবং প্রস্তুতকারকের পরিষ্কার ও ব্যবহারের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
প্রশ্ন ২: বেবি টিথার কত দিন পর পর জীবাণুমুক্ত করা উচিত?
উত্তর: টিথার পরিষ্কার করার নির্দিষ্ট সময়সীমা সব পণ্যের জন্য এক নয়। শিশুর ব্যবহারের পর পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করুন এবং মেঝেতে পড়ে গেলে পুনরায় পরিষ্কার করে তারপর শিশুর হাতে দিন। টিথার ফেটে গেলে, ছিঁড়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি আর ব্যবহার করবেন না।
প্রশ্ন ৩: ৬ মাসের শিশুকে কতক্ষণ খেলনা দিয়ে একা রাখা যাবে?
উত্তর: ৬ মাসের শিশুকে খেলনা দিয়ে দীর্ঘ সময় একা রেখে দেওয়া ঠিক নয়। এই বয়সে শিশু খেলনা মুখে নিতে পারে এবং ছোট বা খুলে যাওয়া অংশ গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বয়স উপযোগী খেলনা বেছে নিয়ে শিশুকে খেলার সময় কাছ থেকে নজরে রাখুন। বিশেষ করে ছোট অংশ, ব্যাটারি বা সহজে খুলে যায় এমন অংশ থাকা খেলনা এড়িয়ে চলুন।
সন্তানের শৈশবকে সুন্দর করে গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রতিটি মা বাবার। শিশু যখন ৬ মাসের কাছাকাছি বয়সে পৌঁছায়, তখন তার চারপাশের জগতকে জানার এবং হাত ও মুখ দিয়ে পরীক্ষা করার কৌতূহল বাড়তে থাকে। তাই এই সময়ে ঘরে শুধু অনেক খেলনা জমিয়ে না রেখে, বাচ্চার বয়স ও বর্তমান দক্ষতার সঙ্গে মানানসই নিরাপদ খেলনা নির্বাচন করা প্রয়োজন।
বয়স উপযোগী খেলনা শিশুকে ধরতে, দেখতে, শুনতে, নড়াচড়া করতে এবং মা বাবার সঙ্গে খেলতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময় প্রথমে রাখুন, কারণ ৬ মাসের শিশুর জন্য খেলনার মজা তখনই সবচেয়ে ভালো হয়, যখন খেলাটি নিরাপদ থাকে।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
