Cart
No products in the cart.

বাংলাদেশে মশার উপদ্রব এখন বারো মাস। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়লে নতুন মা বাবাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বাচ্চা ঘুমালে তাকে যেন একটা মশাও কামড়াতে না পারে, এই চিন্তাই থাকে সারাক্ষন। এই ভয় থেকেই অনেকে ইন্টারনেটে বাচ্চাদের জন্য সেরা মশারির তালিকা খুঁজে বেড়ান, যেন সবচেয়ে নিরাপদ সমাধানটি বেছে নেওয়া যায়।
বাজারে অনেক ধরনের মশারি পাওয়া যায়। তবে শুধু সুন্দর ডিজাইন বা কম দাম দেখে মশারি কেনা ঠিক নয়। শিশুর ঘুমের জায়গার সঙ্গে মশারির মাপ, নেটের মান, বাতাস চলাচল, ফ্রেমের স্থায়িত্ব এবং মশারিটি ঠিকভাবে আটকানো যায় কি না – এসব বিষয়ও দেখতে হবে। বিশেষ করে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মশারি যেন শিশুর মুখের ওপর ঢিলে হয়ে না আসে সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
Table of Contents
ঝটপট ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য নিচের চার্টটি দেখে নিতে পারেন। এখানে শিশুর বয়স এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশারির ধরন বেছে নেওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন তুলে ধরা হলো।
| বয়স | মশারির উপযুক্ত ধরন | নেটের উপাদান | মূল সুবিধা |
|---|---|---|---|
| ০ থেকে ৬ মাস | শিশুর ঘুমের জায়গার উপযোগী নিরাপদ মশারি | নরম ও ভালো বায়ু চলাচলকারী নেট | মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ |
| ৬ থেকে ২৪ মাস | স্ট্যান্ড, পোর্টেবল বা খাটের উপযোগী মশারি | টেকসই ও ভালো বায়ু চলাচলকারী মেস | ব্যবহার ও বহনে সুবিধাজনক |
নোট: শুধু বয়স দেখে মশারি নির্বাচন করবেন না। শিশুর ঘুমের জায়গা, মশারির মাপ এবং নিরাপদভাবে সেটি আটকানো যায় কি না এসব বিষয়ও বিবেচনা করুন।
বাজারে হরেক রকমের মশারির ডিজাইন ও নাম পাওয়া যায়। তবে সব মশারি সব বয়সের বাচ্চার জন্য বা ঘরের পরিবেশের সাথে খাপ খায় না। মা বাবাদের সুবিধার্থে ৫টি পরিচিত ধরনের মশারি নিয়ে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।
এটি মূলত একটি নরম বিছানা বা গদির সঙ্গে মশারির নেট যুক্ত করা সেট। বহন করা সহজ হওয়ায় অনেক পরিবার নবজাতক বা ছোট শিশুর জন্য এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করেন।
তবে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মশারি যুক্ত থাকলেই সেটিকে শিশুর ঘুমের জন্য নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। শিশুর ঘুমের জায়গা শক্ত, সমতল এবং বয়স উপযোগী হওয়া জরুরি। নরম বা ঢেবে যায় এমন গদি, অতিরিক্ত বালিশ বা ঢিলেঢালা কাপড় শিশুর ঘুমের জায়গায় রাখা উচিত নয়।
মশারির জিপার বা চেইন মসৃণ কি না এবং নেটটি শিশুর মুখের ওপর ঢিলে হয়ে আসছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
আমাদের দেশের ঘরগুলোতে ছাতা টাইপ মশারি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি সহজে মেলে ধরা যায় এবং কাজ শেষে গুটিয়ে রাখা যায়। মেঝে বা খাটের ওপর ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন আকারে এটি পাওয়া যায়।
এর সুবিধা হলো, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করা যায় এবং বহন করাও সহজ। তবে শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে নেট হাত বা পা দিয়ে টেনে ফেলতে পারে। তাই নিচের অংশ ভালোভাবে আটকানো আছে কি না এবং মশারির কাঠামো শিশুর ওপর পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা খেয়াল করুন।
এই মশারিগুলো সাধারণত চারকোনা বক্সের মতো ডিজাইনের হয়ে থাকে এবং এর এক বা একাধিক পাশে জিপার থাকে। যারা খাট বা বড় তোশকের ওপর শিশুর জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করেন, তাদের কাছে এই ধরনের মশারি সুবিধাজনক হতে পারে।
জিপার বন্ধ রাখলে মশা ঢোকার সুযোগ কমে যায়। তবে নেটের কোথাও ছিদ্র বা ছেঁড়া আছে কি না এবং জিপার ঠিকভাবে বন্ধ হচ্ছে কি না, নিয়মিত দেখে নিন।
অতিরিক্ত প্লাস্টিকের গন্ধ, খসখসে প্রান্ত বা ভাঙা অংশ থাকলে পণ্যটি ব্যবহার না করাই ভালো।
আপনার বাচ্চা যদি কাঠের তৈরি ক্রিব বা ছোট বেবি কটে ঘুমায়, তবে খাটের উপরে ঝুলিয়ে ব্যবহার করা মশারি একটি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে।
তবে ঝুলন্ত মশারি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। নেট যেন শিশুর ঘুমের জায়গায় ঢিলে হয়ে না পড়ে এবং কোনো দড়ি, ফিতা বা ঝুলন্ত অংশ শিশুর নাগালের মধ্যে না থাকে। মশারিটি শক্তভাবে আটকানো আছে কি না এবং নেট শিশুর মুখের সঙ্গে লেগে যাচ্ছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
CDC ও শিশুদের ক্ষেত্রে মশারি টানটান করে ব্যবহার করতে এবং নেট ঝুলে ঘুমের জায়গার মধ্যে চলে এলে সেটি ঠিক করে দিতে বলে।
এই ধরনের মশারির সঙ্গে একটি মেটাল বা ফাইবার ফ্রেম থাকতে পারে, যা খাটের চারপাশে বা নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে বসানো হয়। কিছু মডেলের নেট পরিবর্তন করা যায় এবং বিভিন্ন আকারের খাটে ব্যবহার করা সম্ভব।
কেনার সময় শুধু দেখতে সুন্দর কি না তা না দেখে ফ্রেমটি স্থির আছে কি না, কোনো ধারালো অংশ আছে কি না এবং নেটটি ঠিকভাবে আটকানো যায় কি না এসব বিষয় পরীক্ষা করুন।
বাজারে সুন্দর সুন্দর রঙ আর ডিজাইনের অনেক মশারিই চোখে পড়ে। তবে আপনার বাচ্চার কোমল ত্বক ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেনার সময় কিছু জরুরি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
বাচ্চাদের মশারির নেটটি যেন নরম, টেকসই এবং ভালোভাবে তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করুন। শুধু “প্রিমিয়াম”, “কেমিক্যাল ফ্রি” বা অন্য কোনো প্রচারণামূলক লেখা দেখেই পণ্যকে নিরাপদ ধরে নেবেন না।
নেটের কাপড় হাতে ধরে দেখুন। কোনো অংশ খসখসে, ছেঁড়া বা ধারালো প্রান্তযুক্ত কি না পরীক্ষা করুন। শিশুর ত্বকের সঙ্গে বারবার ঘষা লাগে এমন অংশ থাকলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো।
পলিয়েস্টার বা সুতির মিশ্রণসহ বিভিন্ন ধরনের নেট বাজারে পাওয়া যায়। উপাদানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নেটটি শিশুর জন্য উপযুক্ত, টেকসই এবং ব্যবহারের সময় নিরাপদভাবে স্থির থাকে কি না।
বাংলাদেশের আবহাওয়া বেশিরভাগ সময়ই গরম এবং আর্দ্র থাকে। তাই মশারির ভেতরে স্বাভাবিক বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
মশারি নিজে সাধারণত ঘরের বাতাস পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতো আবরণ নয়। তবে খুব ঘন বা ভারী কাপড় দিয়ে মশারির চারপাশ ঢেকে দিলে বাতাস চলাচল কমে যেতে পারে। তাই মশা আটকানোর জন্য মশারির চারপাশে কাঁথা, চাদর বা অন্য কোনো ভারী কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখবেন না।
মশারি এমনভাবে ব্যবহার করুন যাতে শিশুর মুখের কাছে নেট ঢিলে হয়ে না আসে এবং ঘরের বাতাস স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে।
মশারি সোজা করে ধরে রাখার জন্য যে ফ্রেম ব্যবহার করা হয়, তার উপাদানের দিকেও নজর দিন।
মেটাল ফ্রেমে সময়ের সঙ্গে জং ধরতে পারে, বিশেষ করে আর্দ্র পরিবেশে। তাই ফ্রেমে জং, ভাঙা অংশ বা ধারালো প্রান্ত দেখা দিলে সেটি ব্যবহার করবেন না।
পলিপ্রোপিলিন, ফাইবার বা অন্য উপযুক্ত উপাদানের ফ্রেমও বাজারে পাওয়া যায়। কোনটি ভালো হবে, তা শুধু উপাদান দেখে নয়, ফ্রেমটি স্থির, মজবুত এবং শিশুর নাগালের বাইরে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করুন।
আজকাল বেশিরভাগ পোর্টেবল মশারিতে জিপার বা চেইন লক সিস্টেম থাকে। কেনার সময় চেইনটি কয়েকবার খুলে বন্ধ করে দেখুন।
জিপার যেন মসৃণভাবে চলে এবং কোনো ধারালো প্রান্ত না থাকে। জিপারের অংশ শিশুর নাগালে থাকলে সেটি টানতে গিয়ে নেটের কাঠামো নষ্ট করতে পারে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মশারিটি যেন এমনভাবে বন্ধ ও আটকানো থাকে যাতে শিশুর নড়াচড়ায় নেট ঢিলে হয়ে মুখের কাছে চলে না আসে।
অনেক সময় আমরা বাচ্চাদের জন্য সেরা মশারির তালিকা দেখে মশারিটি ঠিকই কিনি, কিন্তু ব্যবহারের কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।
রাস্তার মোড়ে বা লোকাল মার্কেটে কম দামে অনেক ধরনের আকর্ষণীয় মশারি পাওয়া যায়। কম খরচে পাওয়ার কারণে অনেক মা বাবা এগুলো কিনে নেন।
তবে শুধু গন্ধ বা রঙ দেখে কোনো মশারিতে “বিষাক্ত কেমিক্যাল” আছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং পণ্যের উপাদান, প্রস্তুতকারকের তথ্য এবং ব্যবহারের নির্দেশনা পরিষ্কারভাবে দেওয়া আছে কি না, সেটি দেখুন।
তীব্র গন্ধ, অস্বাভাবিক রঙ, খসখসে প্লাস্টিক বা নিম্নমানের সেলাই দেখা গেলে শিশুর ঘুমের জায়গায় ব্যবহার না করাই ভালো।
বাংলাদেশের মায়েদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো, বাচ্চাকে ঠান্ডা লাগার ভয় থেকে মশারির চারপাশে বাড়তি কাঁথা বা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া।
এটি করা উচিত নয়। মশারির চারপাশে ভারী কাপড় দিয়ে ঘিরে দিলে বাতাস চলাচল কমে যেতে পারে এবং শিশুর ঘুমের পরিবেশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।
শিশুকে উষ্ণ রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরামদায়ক পোশাক ব্যবহার করুন। ছোট শিশুর ঘুমের জায়গায় ঢিলেঢালা কাঁথা, কম্বল বা অন্য কোনো নরম জিনিস না রাখাই নিরাপদ।
মশারির নেটে সময়ের সঙ্গে ধুলোবালি জমতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস। শিশুর অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকলে ঘরের ধুলোবালি কম রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মশারি পরিষ্কার করার সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করুন।
মশারি কেনার সময় বাচ্চার বয়স ও ঘরের খাটের মাপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক সাইজ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
একটি মশারির সাইজ এমন হওয়া উচিত যেন শিশুর ঘুমের জায়গা ভালোভাবে ঢেকে যায় এবং নেটটি শিশুর মুখ বা শরীরের ওপর ঢিলে হয়ে না আসে।
নবজাতকের জন্য পোর্টেবল মশারি ব্যবহার করলে সেটির সঙ্গে থাকা গদি বা ঘুমের জায়গাটি নিরাপদ কি না, সেটিও যাচাই করুন। শুধু মশারি আছে বলেই নরম বা ঢেবে যায় এমন গদিতে শিশুকে ঘুম পাড়ানো উচিত নয়। শিশুর ঘুমের জন্য শক্ত ও সমতল পৃষ্ঠ এবং উপযুক্ত ঘুমের জায়গা গুরুত্বপূর্ণ।
বাচ্চা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নড়াচড়া বাড়ে। তাই এমন মশারি বেছে নিন যা শিশুর নড়াচড়ার সঙ্গে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায় এবং সহজে খুলে বা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই।
আপনার বাচ্চা যদি বড় খাটে ঘুমায়, তবে খাটের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মশারি বেছে নিন। আর যদি বাচ্চার জন্য আলাদা ক্রিব বা খাট থাকে, তবে সেই খাটের জন্য উপযুক্ত মশারি ব্যবহার করুন।
ঢিলেঢালা ফিটিংয়ের মশারি সহজে সরে যেতে পারে বা শিশুর ঘুমের জায়গার মধ্যে ঝুলে পড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত ছোট মশারি শিশুর নড়াচড়ার সময় টান পড়ে খুলে যেতে পারে।
মশারি লাগানোর পর চারপাশ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। কোথাও ফাঁকা আছে কি না, নেট ছেঁড়া কি না এবং শিশুর নাগালে কোনো দড়ি বা ফিতা আছে কি না, সেগুলোও দেখে নিন।
বেবি মশারি কেনা ও ব্যবহারের সময় মা বাবাদের মনে যে সাধারণ প্রশ্নগুলো জাগে, তার সরাসরি উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন ১: নবজাতকের জন্য কোন ধরনের মশারি সবচেয়ে নিরাপদ?
উত্তর: কোনো একটি নির্দিষ্ট মশারির ধরনকে সব নবজাতকের জন্য “সবচেয়ে নিরাপদ” বলা ঠিক নয়। শিশুর ঘুমের জায়গার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, মজবুতভাবে আটকানো এবং ভালো বাতাস চলাচলকারী মশারি বেছে নিন। মশারিটি যেন শিশুর মুখের ওপর ঢিলে হয়ে না আসে বা ঘুমের জায়গায় ঝুলে না থাকে। পাশাপাশি শিশুর ঘুমের জায়গা শক্ত ও সমতল হওয়া এবং ঢিলেঢালা বিছানা বা নরম জিনিসমুক্ত থাকা জরুরি।
প্রশ্ন ২: মশারির নেট কি শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করে?
উত্তর: ভালোভাবে তৈরি ও সঠিকভাবে ব্যবহার করা মশারি মশার কামড় কমানোর জন্য কার্যকর। তবে নেটের চারপাশে কাঁথা, চাদর বা অন্য কোনো ভারী কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলে বাতাস চলাচল কমতে পারে। আবার নেট শিশুর মুখের ওপর ঢিলে হয়ে এলে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মশারি টানটান ও নিরাপদভাবে ব্যবহার করুন।
প্রশ্ন ৩: বেবি মশারি কত দিন পর পর ধোয়া উচিত?
উত্তর: মশারি কত ঘন ঘন ধুতে হবে, তার নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ব্যবহার, ধুলাবালি এবং প্রস্তুতকারকের ধোয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করুন। নেটে ধুলো বা ময়লা জমে গেলে পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে আপনার ছোট্ট বাবুকে সুরক্ষিত রাখতে মশারি একটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তবে শুধু মশারি কিনলেই হবে না, সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করাও জরুরি।
মশারির নেট যেন ছেঁড়া না থাকে, মশারিটি যেন ঠিকভাবে আটকানো থাকে এবং শিশুর মুখ বা শরীরের ওপর ঢিলে হয়ে না আসে – এসব নিয়মিত পরীক্ষা করুন। মশারির চারপাশে ভারী কাপড় দিয়ে বাতাস বন্ধ করবেন না এবং শিশুর ঘুমের জায়গায় অতিরিক্ত কাঁথা, বালিশ বা নরম জিনিস রাখবেন না।
সঠিক মাপ, ভালো মানের নেট এবং নিরাপদ ব্যবহার – এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে মশারি বেছে নিলে শিশুর ঘুমের সময় মশার কামড়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো যায়। পাশাপাশি দরজা জানালার জালি, জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখুন।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
