0 ৳ 0.00

Cart

No products in the cart.

বেবি ওয়াকার ব্যবহারের নিয়ম, সুবিধা ও অসুবিধা: ভুল করছেন নাতো?

বেবি ওয়াকার ব্যবহারের নিয়ম

বাচ্চা কবে হাঁটা শিখবে? এই স্বপ্ন সব মা বাবার মনে সবসময় নাড়া দেয়। শিশু যখন নিজে নিজে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, ঠিক তখনই আমাদের মনে এক অন্যরকম উত্তেজনা তৈরি হয়। আর ঠিক এই সময়েই আমরা বেবি ওয়াকার নিয়ে ভাবতে শুরু করি। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আমাদের একটা বড় ভুল হয়ে যেতে পারে। বেবি ওয়াকার ব্যবহারের নিয়ম না জানায় আমরা শিশুর উপকার করার চেয়ে উল্টো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে ফেলতে পারি।

আমাদের দেশে সাধারণত কোনো নিয়ম না মেনেই ওয়াকার ব্যবহার করা হয়। অথচ বিশ্বজুড়ে শিশু বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে সতর্ক করে আসছেন। বিশেষ করে চাকার ওপর চলা বসার ওয়াকার শিশুকে সিঁড়ি, গরম জিনিস বা আগে নাগালের বাইরে থাকা বিভিন্ন বিপজ্জনক জিনিসের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারে। তাই শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থেই এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা খুব জরুরি।

বেবি ওয়াকার ব্যবহারের সামারি চার্ট

ঝটপট ও সহজে তথ্য খোঁজার জন্য নিচের চার্টটি স্ক্যান করে নিতে পারেন। এখানে বেবি ওয়াকার ব্যবহারের মূল নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নিরাপদ বিকল্প তুলে ধরা হলো।

বিষয়সঠিক বিবরণ ও নিয়ম
সঠিক বয়সচাকার ওপর চলা বসার ওয়াকারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট “নিরাপদ বয়স” ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
দৈনিক ব্যবহারের সময়নিরাপত্তার দিক থেকে এ ধরনের ওয়াকার এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকিসিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়া, উল্টে যাওয়া এবং আগে নাগালের বাইরে থাকা গরম বা বিপজ্জনক জিনিসে পৌঁছে যাওয়া।
ভালো বিকল্পমেঝেতে স্বাভাবিক নড়াচড়া, হামাগুড়ি ও নিজে দাঁড়ানোর সুযোগ, প্রয়োজন হলে অ্যাক্টিভিটি সেন্টার।

বেবি ওয়াকার কত মাসে দিতে হয় এবং এটি কিভাবে কাজ করে?

একটি শিশু কখন হাঁটা শেখার জন্য প্রস্তুত হয় এবং ওয়াকার কীভাবে তার চলাফেরাকে প্রভাবিত করতে পারে, তা প্রতিটি মা বাবার জানা উচিত। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওয়াকার দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সকে “নিরাপদ সময়” ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

শিশুর শারীরিক প্রস্তুতি

সাধারণত শিশু যখন নিজে থেকে বসতে পারে বা দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তখন থেকেই অনেকে ওয়াকার দেওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু শুধু বয়স বা নিজে দাঁড়াতে পারা দেখে বসার ওয়াকারকে নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

চাকার ওপর চলা ওয়াকার শিশুকে নিজের স্বাভাবিক হাঁটার দক্ষতার বাইরে দ্রুত চলাফেরা করার সুযোগ দেয়। ফলে শিশু এমন জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে যেখানে সে সাধারণভাবে পৌঁছাতে পারত না। সিঁড়ি, গরম হাঁড়ি, বৈদ্যুতিক তার বা টেবিলের ওপর থাকা জিনিস, এসবই তখন ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

তাই শিশুর হাঁটা শেখানোর জন্য ওয়াকার ব্যবহার করার বদলে তাকে নিরাপদ মেঝেতে নিজে নড়াচড়া, হামাগুড়ি, বসা, দাঁড়ানো এবং ধীরে ধীরে হাঁটার স্বাভাবিক সুযোগ দেওয়া ভালো।

ওয়াকার যেভাবে শিশুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে

ওয়াকার মূলত একটি চাকাযুক্ত ফ্রেম, যার মাঝখানে বসার সিট থাকে। এটি শিশুর শরীরকে চারপাশ থেকে ধরে রাখে এবং পা দিয়ে মাটিতে ধাক্কা দিলে চাকাগুলো সামনে বা অন্যদিকে চলে।

তবে এটিকে শিশুর নিজের ভারসাম্য শেখার উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ওয়াকারের ফ্রেম শিশুকে ধরে রাখে, কিন্তু স্বাভাবিক হাঁটার সময় যে ভারসাম্য, পেশির নিয়ন্ত্রণ ও শরীরের সমন্বয় প্রয়োজন, তা শিশু নিজে শিখে। এ কারণেই ওয়াকারকে হাঁটা শেখানোর প্রয়োজনীয় যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

বেবি ওয়াকার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

যেকোনো শিশুপণ্য ব্যবহার করার সময় নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেবি ওয়াকারের ক্ষেত্রে শুধু কিছু সতর্কতা মেনে চললেই সব ঝুঁকি দূর হয়ে যায় এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

মেঝে ও পরিবেশ নিরাপদ রাখার উপায়

আমাদের দেশের বাসাবাড়িগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়। ঘরে খাট, আলমারি বা সোফা গাদাগাদি করে রাখা থাকতে পারে। এমন পরিবেশে ওয়াকার চালানো শিশুর জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ওয়াকার ব্যবহার করলে শিশু খুব দ্রুত ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। ফলে ধারালো আসবাব, সিঁড়ি, গরম হাঁড়ি পাতিল, বৈদ্যুতিক তার বা নিচু জায়গায় রাখা ছোট জিনিস তার নাগালের মধ্যে চলে আসতে পারে।

তাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হলো শিশুর স্বাভাবিক নড়াচড়ার জন্য একটি পরিষ্কার ও নিরাপদ মেঝের জায়গা তৈরি করা। মেঝেতে কোনো ছোট খেলনা, কয়েন বা অন্য ছোট বস্তু পড়ে থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। রান্নাঘর, সিঁড়ি ও অন্যান্য বিপজ্জনক জায়গায় শিশুর প্রবেশ বন্ধ রাখুন।

এই বিষয়ে আমাদের লেখা “শিশুর ঘর নিরাপদ করার উপায়” গাইডলাইনটি দেখে নিতে পারেন।

দৈনিক সময়সীমা

নতুন মায়েরা অনেক সময় ঘরের কাজ সারতে বাচ্চাকে দীর্ঘক্ষণ ওয়াকারে বসিয়ে রাখেন। ভাবেন, বাচ্চা তো নিরাপদেই আছে। আর ওদিক দিয়ে ওয়াকারে বসে বসে শিশু সিঁড়ি, গরম তরল বা অন্য বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে।

তাই শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য দীর্ঘ সময় ওয়াকারে বসিয়ে রাখার বদলে নিরাপদ মেঝেতে নিজের মতো নড়াচড়া ও খেলার সুযোগ দেওয়া ভালো।

জুতা বা খালি পায়ে ওয়াকার চালানো

ওয়াকার ব্যবহারের জন্য বিশেষ জুতা বা খালি পা বেছে নেওয়াকে নিরাপত্তার মূল সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। চাকার ওপর চলা ওয়াকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি শিশুকে খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারে।

শিশুর স্বাভাবিক হাঁটা শেখার সময় নিরাপদ মেঝেতে খালি পায়ে বা উপযুক্ত পোশাকে নড়াচড়া করার সুযোগ দিলে সে নিজের পায়ের অবস্থান ও ভারসাম্য সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবে শিখতে পারে।

কখনই শিশুকে একা না রাখা

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, শিশুকে কোনো অবস্থাতেই এমন জায়গায় একা রাখা উচিত নয় যেখানে দ্রুত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক মা বাচ্চাকে ওয়াকারে রেখে বাথরুমে যান বা অন্য ঘরে চলে যান। এটি নিরাপদ অভ্যাস নয়।

ওয়াকারে থাকা শিশু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিঁড়ি, দরজা, রান্নাঘর বা টেবিলের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। গবেষণায় infant walker এর সঙ্গে সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর দুর্ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

তবে শুধু একজন প্রাপ্তবয়স্ক পাশে থাকলেই ওয়াকারের সব ঝুঁকি দূর হয় না। তাই সম্ভব হলে বেবি ওয়াকার ব্যবহার না করাই নিরাপদ পছন্দ।

বেবি ওয়াকারের সুবিধা: শিশুদের জন্য এটি কতটা দরকারী?

ওয়াকার সম্পর্কে অনেক মা বাবার কিছু ইতিবাচক অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। শিশু কিছু সময়ের জন্য ব্যস্ত থাকে এবং নিজে নিজে ঘরের মধ্যে চলাফেরা করতে পারে। তবে এগুলোকে শিশুর শারীরিক বা হাঁটা শেখার প্রমাণিত সুবিধা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

শিশুর শারীরিক সক্রিয়তা ও মানসিক আনন্দ

নড়াচড়া করতে পারা শিশুর জন্য আনন্দের। ওয়াকারে বসলে শিশু নিজের ইচ্ছামতো কিছুটা চলাফেরা করতে পারে এবং চারপাশের বিভিন্ন জিনিস দেখতে পারে।

আজকালকার অনেক ওয়াকারে বিভিন্ন রঙের লাইট, বাটন ও খেলনা যুক্ত থাকে। এগুলো শিশুকে ব্যস্ত রাখতে পারে। তবে এগুলো ওয়াকার ব্যবহারের বিশেষ বিকাশগত সুবিধা প্রমাণ করে না।

শিশুর হাত আর চোখের সমন্বয় ও ইন্দ্রিয়ের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মেঝেতে বয়স উপযোগী খেলনা নিয়ে খেলা, জিনিস ধরার চেষ্টা করা এবং নিরাপদ পরিবেশে নড়াচড়া করাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

মা বাবার জন্য সাময়িক স্বস্তি

দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা শিশুর যত্ন নেওয়া মা বাবার জন্য ক্লান্তিকর হতে পারে। ওয়াকার শিশুকে কিছু সময় ব্যস্ত রাখছে বলে সাময়িকভাবে এটা সুবিধাজনক মনে হতে পারে।

তবে এই সুবিধার জন্য শিশুকে দীর্ঘ সময় ওয়াকারে রাখা ঠিক নয়। শিশুর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নড়াচড়ার সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বেবি ওয়াকার ব্যবহারের অসুবিধা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ওয়াকার নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। American Academy of Pediatrics (AAP) mobile infant walker ব্যবহারের বিরোধিতা করে এবং এর manufacture ও sale নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারণ এসব ওয়াকার শিশুকে দ্রুত বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে এবং গুরুতর আঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটার অভ্যাস

ওয়াকারে থাকা অবস্থায় কিছু শিশু পায়ের আঙুলের দিকে বেশি ভর দিয়ে নড়াচড়া করতে পারে।

শিশুর স্বাভাবিক হাঁটার সময় যদি বারবার পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটা দেখা যায়, অথবা হাঁটার ধরন নিয়ে মা বাবার উদ্বেগ থাকে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

পায়ের পেশি ও হাড়ের প্রাকৃতিক গঠনে বাধা

ওয়াকার ব্যবহার করলে শিশুর পা ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে যাবে বা হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

তবে ওয়াকার শিশুর স্বাভাবিক নড়াচড়া ও পরিবেশের সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক সমন্বয় শেখার সুযোগের বিকল্প নয়। তাই হাঁটা শেখানোর জন্য ওয়াকার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।

বেবি ওয়াকার ব্যবহারে ভারসাম্য এবং সমন্বয় দেরিতে শেখা

হাঁটা শেখার জন্য শিশুকে নিজের শরীরের ভারসাম্য, পায়ের অবস্থান এবং নড়াচড়ার সমন্বয় ধীরে ধীরে শিখতে হয়। ওয়াকার শিশুকে একটি বাহ্যিক সাপোর্টের মধ্যে রেখে চলাফেরা করায়।

কিছু গবেষণায় infant walker ব্যবহারের সঙ্গে স্বাধীনভাবে হাঁটা শুরু করতে সামান্য দেরির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এই গবেষণাগুলোর প্রমাণের মান সীমিত এবং নির্দিষ্ট সময়ের দেরিকে প্রত্যেক শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াকার হাঁটা শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় নয়।

ওয়াকার ব্যবহারে দুর্ঘটনা ও শারীরিক আঘাতের ঝুঁকি

ওয়াকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি। AAP এর তথ্য অনুযায়ী infant walker সংক্রান্ত আঘাতের মধ্যে সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ওয়াকার শিশুকে এমন জায়গায়ও পৌঁছে দিতে পারে যেখানে সে সাধারণভাবে পৌঁছাতে পারত না – যেমন গরম তরল, চুলার হাতল, বৈদ্যুতিক তার বা টেবিলের ওপর থাকা বিপজ্জনক জিনিস।

এই কারণেই শুধু ভালোভাবে নজর রাখা বা সিঁড়ির সামনে গেট লাগানোকে ওয়াকারের পূর্ণ নিরাপত্তা সমাধান হিসেবে ধরা যায় না।

বাংলাদেশে বেবি ওয়াকার ব্যবহারে যে ভুলগুলো মা বাবারা করেন

আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশুর লালন পালনের ক্ষেত্রে কিছু প্রচলিত ভুল প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে। না বুঝে বা দেখা দেখি করা এই অভ্যাসগুলো শিশুর নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভুল সাইজের ওয়াকার বাছাই করা

আমাদের দেশের বাজারে বিভিন্ন আকারের ওয়াকার পাওয়া যায়। মা বাবারা অনেক সময় বাচ্চার উচ্চতা বা পায়ের অবস্থান বিবেচনা না করেই এগুলো কিনে নেন।

শিশু যদি ওয়াকারে বসে অস্বাভাবিকভাবে কুঁজো হয়ে থাকে বা পায়ের অবস্থান ঠিক না থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। আবার শুধু সঠিক সাইজের ওয়াকার কিনলেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা দূর হয় না।

দেশি অভ্যাস: সারা দিন ওয়াকারে বসিয়ে রাখা

যৌথ পরিবার বা একক পরিবার, সবখানেই এখন কাজের ব্যস্ততা। বাংলাদেশের অনেক মা বাবা সন্তানকে শান্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে দীর্ঘ সময় ওয়াকারে বসিয়ে রাখেন। এটি ভালো অভ্যাস নয়।

শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য তাকে নিরাপদ মেঝেতে নড়াচড়া, হামাগুড়ি, বসা, দাঁড়ানো এবং নিজের মতো করে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে।

মেঝের ম্যাট ও টাইলসের তফাৎ না বোঝা

মসৃণ টাইলস বা অন্য কোনো মেঝেতে ওয়াকারের চাকা দ্রুত চলতে পারে। আবার বিভিন্ন মেঝের ঘর্ষণও একরকম নয়। তাই “সেফটি ম্যাট বিছিয়ে দিলেই ওয়াকার নিরাপদ” এমন ধারণা ঠিক নয়।

শিশুর খেলার জায়গা তৈরি করার সময় মেঝে পরিষ্কার, স্থিতিশীল এবং ছোট বা বিপজ্জনক জিনিসমুক্ত রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়াকারের নিরাপদ বিকল্প: পুশ ওয়াকার ও অ্যাক্টিভিটি

আপনি যদি আপনার বাচ্চার সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে চান, তবে চাকার ওপর চলা বেবি ওয়াকারের বদলে শিশুর স্বাভাবিক নড়াচড়ার সুযোগ তৈরি করাই ভালো।

পুশ ওয়াকার বনাম ট্র্যাডিশনাল সিটেড ওয়াকার

পুশ ওয়াকার ও বসার ওয়াকার এক জিনিস নয়। পুশ ওয়াকার শিশুকে বসিয়ে বহন করে না, শিশু দাঁড়িয়ে সেটিকে ঠেলে সামনে নিতে চেষ্টা করে।

তবে পুশ ওয়াকারও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা ঠিক নয়। শিশু যদি দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত না থাকে, অথবা পুশ ওয়াকার খুব সহজে গড়িয়ে যায়, তাহলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

তাই পুশ ওয়াকার ব্যবহার করলে শিশুর বয়স ও শারীরিক প্রস্তুতি বিবেচনা করুন এবং সিঁড়ি, উঁচু নিচু জায়গা ও অন্যান্য বিপজ্জনক স্থান থেকে দূরে রাখুন। শিশুর হাঁটা শেখানোর জন্য এটি বাধ্যতামূলকও নয়।

মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়া ও ন্যাচারাল ক্রলিং এর গুরুত্ব

কোনো কৃত্রিম যন্ত্রের চেয়ে শিশুর নিরাপদ মেঝেতে নিজের মতো নড়াচড়া করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপুড় হয়ে খেলা, গড়াগড়ি, হামাগুড়ি দেওয়া, বসা, দাঁড়ানোর চেষ্টা এসব স্বাভাবিক নড়াচড়া শিশুর শরীরের বিভিন্ন পেশি ও সমন্বয় ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দেয়।

তাই শিশুকে সবসময় কোনো যন্ত্রে বসিয়ে রাখার বদলে নিরাপদ মেঝেতে বয়স উপযোগী খেলাধুলা ও নড়াচড়ার সুযোগ দিন।

বেবি ওয়াকার ব্যবহারের নিয়ম সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী – FAQ

ওয়াকার নিয়ে নতুন মা বাবাদের মনে নানা রকম প্রশ্ন ও দ্বিধা কাজ করে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জরুরি ৩টি প্রশ্নের উত্তর নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো।

প্রশ্ন ১: ওয়াকার ব্যবহার করলে কি শিশু দ্রুত হাঁটে?
উত্তর: না। ওয়াকার শিশুকে হাঁটা শেখানোর প্রয়োজনীয় কোনো যন্ত্র নয়। বরং কিছু গবেষণায় ওয়াকার ব্যবহারের সঙ্গে স্বাধীনভাবে হাঁটা শুরু করতে সামান্য দেরির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন ২: ওয়াকারে দিলে শিশুর পা বাঁকা হয়ে যেতে পারে?
উত্তর: ওয়াকার ব্যবহার করলে শিশুর পা অবশ্যই বাঁকা হয়ে যাবে এমন দাবি ঠিক নয়। তবে ওয়াকার ব্যবহারের সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে এবং এটি স্বাভাবিক হাঁটা শেখার প্রয়োজনীয় অংশ নয়। শিশুর হাঁটা বা পায়ের গঠন নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

প্রশ্ন ৩: বেবি ওয়াকারের বদলে পুশ ওয়াকার কেন বেশি নিরাপদ?
উত্তর: পুশ ওয়াকারে শিশু বসে চাকার সাহায্যে নিজে নিজে দ্রুত এগিয়ে যায় না, তাকে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরের ভর নিয়ন্ত্রণ করে ঠেলতে হয়। তবে এটিও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় এবং শিশুর শারীরিক প্রস্তুতি অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়। নিরাপদ মেঝেতে স্বাভাবিক নড়াচড়া করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ সতর্কবার্তা: এই নিবন্ধটি সাধারণ সচেতনতা ও তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে রচিত। শিশুর হাঁটা, দাঁড়ানো বা পায়ের নড়াচড়া নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে ঘরে বসে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

শেষ কথা

সন্তানের ছোট ছোট প্রতিটি পরিবর্তনই মা বাবার জন্য ভীষণ আনন্দের। তবে এই আনন্দের মাঝেও বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। বেবি ওয়াকার শিশুকে দ্রুত চলাফেরা করার সুযোগ দিলেও এটি হাঁটা শেখানোর প্রয়োজনীয় যন্ত্র নয় এবং এর সঙ্গে গুরুতর দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই শুধু অন্য বাচ্চাকে ওয়াকারে দেখে নিজের শিশুকেও একইভাবে বসানোর প্রয়োজন নেই। শিশুকে নিরাপদ মেঝেতে নিজের মতো নড়াচড়া, হামাগুড়ি, বসা, দাঁড়ানো এবং ধীরে ধীরে হাঁটার সুযোগ দিন। আর যদি কোনো ওয়াকার বা শিশুর হাঁটা নিয়ে সন্দেহ থাকে, শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

You might be interested in …

1 Comment

  1. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়াকার ব্যবহার নিষিদ্ধ। আমিও আমার মেয়ের সময় ওয়াকার ব্যবহার করিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Chat now