Cart
No products in the cart.

জন্মের পর প্রথম ৩ বছরে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ খুব দ্রুত ঘটে। এই দ্রুত বর্ধনশীল সময়ে সচেতন মা বাবারা শিশুর বুদ্ধি বিকাশের খেলনা প্রচুর খোঁজাখুঁজি করেন, যেন সঠিক খেলনার মাধ্যমে বাচ্চার চিন্তাশক্তি ও শেখার সুযোগ বাড়ানো যায়। আমাদের দেশে সাধারণত দামি কোনো খেলনা বা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি কিনে দেওয়া হয়, যা অনেক সময় কেবল বিনোদন দেয়। কিন্তু বাচ্চার শেখার জন্য এমন খেলনা নির্বাচন করা ভালো, যেগুলো তাকে নিজের হাতে কিছু করতে, ভাবতে ও মা বাবার সঙ্গে খেলতে উৎসাহিত করে।
Table of Contents
ঝটপট ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য শিশুর বয়সভিত্তিক শেখা ও বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে পারে এমন খেলনার একটি সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন তুলে ধরা হলো।
| বয়সসীমা | উপযোগী খেলনার ধরন | শেখা ও বিকাশের সুযোগ |
|---|---|---|
| ০ থেকে ৬ মাস | হাই কনট্রাস্ট কার্ড / বয়স উপযোগী সেন্সরি খেলনা | চোখে দেখা, ধরা ও ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে শেখার সুযোগ |
| ৬ থেকে ১২ মাস | স্ট্যাকিং কাপ / সহজ শেপ সর্টার | হাত ও চোখের সমন্বয় এবং কারণ ও ফল বোঝার অনুশীলন |
| ১ থেকে ৩ বছর | বিল্ডিং ব্লকস / সহজ পাজল | সমস্যা সমাধান, হাতের ব্যবহার ও সৃজনশীল খেলার সুযোগ |
| ৩ বছরের বেশি | মেমোরি গেম / বয়স উপযোগী পাজল | মনোযোগ, স্মৃতি ও সমস্যা সমাধানের অনুশীলন |
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয়, এটি ধাপে ধাপে কিছু নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। খেলনা কীভাবে শিশুর শেখার সুযোগ তৈরি করে, তা বুঝতে হলে দুটি মূল বিষয় জানা জরুরি।
কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় বিকাশ হলো শিশুর চিন্তা করা, শেখা, মনে রাখা এবং কোনো সমস্যার সমাধান করার মানসিক ক্ষমতা। একটি শিশু যখন কোনো বয়স উপযোগী খেলনা নিয়ে খেলতে বসে, তখন সে নিজের কাজের ফল লক্ষ্য করার সুযোগ পায়। যেমন, একটি ছোট শিশু যখন বুঝতে পারে যে গোল ব্লকটি গোল ছিদ্রে বসে, তখন সে আকার মিলিয়ে দেখা ও কারণ-ফল বোঝার অনুশীলন করে।
এই ধরনের ছোট ছোট খেলার অভিজ্ঞতা শিশুর শেখার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। এটি শিশুকে মনোযোগ দিয়ে কোনো কাজ করার এবং ভুল হলে আবার চেষ্টা করার সুযোগ দেয়। তাই বুদ্ধি বিকাশের খেলনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো শিশুকে সক্রিয়ভাবে ভাবতে ও করতে উৎসাহিত করতে পারে।
মটর স্কিল হলো শিশুর শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে নাড়াচাড়া করার ক্ষমতা। হাত ও চোখের সমন্বয় তৈরি করতে ফাইন মটর স্কিল গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যখন বয়স উপযোগী বড় ব্লক ধরে, পাজলের টুকরো মেলায় বা কাপ একটার ওপর আরেকটা সাজায়, তখন তার হাত ও আঙুলের নড়াচড়ার অনুশীলন হয়।
গ্রস মটর স্কিল হলো শিশুর বড় পেশির কাজ, যেমন হামাগুড়ি দেওয়া, দাঁড়ানো, হাঁটা বা বড় খেলনা ঠেলে নিয়ে যাওয়া। হাত, পা ও চোখের এই নড়াচড়া শিশুকে নিজের শরীর ব্যবহার করে পরিবেশ অন্বেষণ করতে সাহায্য করে। তাই শিশুকে শুধু বিছানায় বসিয়ে না রেখে বয়স অনুযায়ী নিরাপদ জায়গায় নড়াচড়া ও খেলার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় চাহিদা ও খেলার ধরন পরিবর্তিত হয়। তাই বাচ্চার বয়স ও বর্তমান দক্ষতার সঙ্গে মানানসই খেলনা বেছে নেওয়া মা বাবার প্রধান দায়িত্ব।
জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর চারপাশের জগতকে দেখার ও শোনার ক্ষমতা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এই সময়ে বয়স উপযোগী নরম ও নিরাপদ সেন্সরি খেলনা শিশুকে বিভিন্ন রং, আকার ও স্পর্শের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করতে পারে। রঙিন জিনিস চোখ দিয়ে অনুসরণ করার সময় শিশুর দৃষ্টির ব্যবহার ও মনোযোগের অনুশীলন হয়।
৮-৯ মাস বয়সে যখন শিশু নিজে বসতে শেখে, তখন তাকে নরম কাপড়ের পিক অ্যা বু বই, ছবি ওয়ালা বই এবং বয়স উপযোগী হালকা শব্দের খেলনা দেওয়া যেতে পারে। এগুলো শিশুর দেখা, শোনা ও স্পর্শের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করে। তবে খেলনার কোনো ছোট অংশ যেন খুলে না আসে এবং খেলনাটি বয়স অনুযায়ী নিরাপদ কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে।
১ বছর পার হওয়ার পর শিশু নিজের চারপাশের জিনিস নিয়ে আরও সক্রিয়ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে শুরু করে। এই সময়ে মেধার বিকাশের জন্য উডেন শেপ সর্টার, সহজ জ্যামিতিক পাজল এবং স্ট্যাকিং কাপ বা রিং দেওয়া যেতে পারে। শিশু যখন ভিন্ন ভিন্ন আকার বা রঙের জিনিস মিলানোর চেষ্টা করে, তখন তার পর্যবেক্ষণ ও সমস্যা সমাধানের অনুশীলন হয়।
এটি এক ধরনের চমৎকার ব্রেন টিজার খেলনা হতে পারে, যা বাচ্চাকে কোনো কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা করতে উৎসাহিত করে। কোনো একটি ব্লক সঠিক জায়গায় বসাতে পারলে শিশুর আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসও বাড়তে পারে।
এই বয়সে শিশুর নিজস্ব কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল খেলার সুযোগ দ্রুত বাড়ে। কালারফুল বিল্ডিং ব্লকস হলো এই বয়সের জন্য ভালো একটি ওপেন এন্ডেড খেলনা। এই ধরনের ব্লকের নির্দিষ্ট একটি ব্যবহার না থাকায় বাচ্চা নিজের মতো করে ঘর, গাড়ি বা অন্য কিছু বানানোর চেষ্টা করতে পারে।
এতে শিশুর সমস্যা সমাধান, হাত চোখের সমন্বয় ও সৃজনশীল চিন্তার অনুশীলন হয়। রঙ অনুযায়ী জিনিস আলাদা করার খেলাও এই বয়সে সহজভাবে শেখানো যেতে পারে।
৩ বছর পার হলে শিশুর খেলার ধরন আরও জটিল হতে শুরু করে। এই সময়ে বাচ্চার স্মৃতি, মনোযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অনুশীলনের জন্য মেমোরি ম্যাচিং কার্ড গেম বা বয়স উপযোগী পাজল দেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম ও সহজ নির্মাণমূলক খেলনাও এই বয়সের বাচ্চাদের জন্য ভালো হতে পারে।
বাচ্চা যখন একটি পাজল মেলাতে বা কোনো কিছু তৈরি করতে চেষ্টা করে, তখন তাকে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং ভুল হলে আবার চেষ্টা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এটি শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমান সময়ে সচেতন মা বাবাদের কাছে মন্টেসরি খেলনাগুলোর চাহিদা বেড়েছে। মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে শুধু খেলনাটি মন্টেসরি কি না, তার চেয়ে খেলনাটি শিশুকে কীভাবে খেলতে ও শিখতে সাহায্য করছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মন্টেসরি পদ্ধতিতে সাধারণত সহজ, বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শিশুকে নিজে কাজ করার সুযোগ দেয় এমন উপকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাঠের খেলনা এর মধ্যে থাকতে পারে, তবে শুধু কাঠ দিয়ে তৈরি হলেই কোনো খেলনা বেশি কার্যকর হয়ে যায় না।
যেমন, একটি সাধারণ খেলনা গাড়ি যদি বাচ্চা নিজের হাতে ঠেলে চালায়, তাহলেও সেটি কারণ ও ফলাফল বোঝার এবং হাতের ব্যবহার শেখার সুযোগ দিতে পারে। আবার কোনো কাঠের খেলনাও যদি শুধু একটি বোতাম চাপলেই নিজে নিজে চলে, তাহলে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হতে পারে।
মন্টেসরি ধরনের কিছু খেলনা শিশুকে নিজে চেষ্টা করে সমস্যা সমাধানের সুযোগ দেয়। যেমন, একটি বয়স উপযোগী নাট অ্যান্ড বোল্ট সেটে শিশু সঠিক অংশ মিলিয়ে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।
এখানে কোনো বড় মানুষ সঙ্গে সঙ্গে ভুলটি বলে না দিয়ে শিশুকে নিজে চেষ্টা করার সুযোগ দিলে তার সমস্যা সমাধানের অভ্যাস তৈরি হতে পারে। তবে খেলনা বাছাইয়ের সময় শিশুর বয়স ও নিরাপত্তা নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
আজকালকার শহরের বাসাবাড়িতে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে মা বাবাদের উদ্বেগ অনেক। মা বাবারা অনেক সময় সন্তান কান্নাকাটি করলে কিংবা খেতে না চাইলে তার হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেন। কিন্তু শিশুর বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা এবং পারিবারিক নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে অনেক মা বাবা সন্তান কান্নাকাটি করলে, কিংবা জেদ করে খেতে না চাইলে তার হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেন। কিন্তু দ্রুত বদলে যাওয়া ভিডিও বা বিনোদনের ওপর শিশুকে দীর্ঘ সময় নির্ভরশীল করে না রেখে তাকে বাস্তব জগতের খেলাধুলা, বই, কথা বলা এবং মা বাবার সঙ্গে সরাসরি খেলার সুযোগ দেওয়া ভালো।
বিশেষ করে ছোট শিশুদের শেখার ক্ষেত্রে মা বাবার সঙ্গে কথা বলা, মুখোমুখি যোগাযোগ এবং হাতে কলমে খেলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই মোবাইলকে শিশুকে ব্যস্ত রাখার নিয়মিত মাধ্যম না বানিয়ে বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা মেনে চলা ভালো।
মোবাইলের প্যাসিভ বিনোদনের বিপরীতে একটি ব্রেন ডেভেলপমেন্ট টয় বা উডেন পাজল বাচ্চার হাত ও মনকে একই সঙ্গে সক্রিয় রাখার সুযোগ দেয়। স্ক্রিনে শুধু দেখা নয়, খেলনায় শিশুকে নিজের হাতে কাজ করতে হয়।
যখন একটি বাচ্চা ব্লক দিয়ে একটি টাওয়ার তৈরি করতে গিয়ে বারবার পড়ে যায়, তখন সে নতুন করে চেষ্টা করার সুযোগ পায়। খেলনার মাধ্যমে এই ধরনের সক্রিয় খেলা শিশুকে ধৈর্য, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের অনুশীলন করতে সাহায্য করতে পারে।
বুদ্ধি বিকাশের খেলনা নির্বাচনের সময় বাচ্চার শেখার পাশাপাশি তার শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।
টয় সেফটি চেকলিস্ট: বুদ্ধি বিকাশের খেলনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময়
সেফটি অ্যালার্ট: ৩ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ছোট পার্টস, মার্বেল বা সহজে মুখে ঢুকে যেতে পারে এমন অংশযুক্ত খেলনা এড়িয়ে চলুন। ব্যাটারি কম্পার্টমেন্ট যেন শিশু সহজে খুলতে না পারে। খেলনা কেনার সময় বয়সের নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করুন।
যেহেতু মেধা বিকাশকারী খেলনাগুলো শিশুরা বারবার হাত দিয়ে ধরে, মেঝেতে ফেলে এবং অনেক সময় মুখে দেয়, তাই এগুলো পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। খেলনা নোংরা হলে শিশুর হাতে বা মুখে ময়লা যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্লাস্টিক বা সিলিকনের খেলনা পরিষ্কার করার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নিন। পানি দিয়ে ধোয়া যায় এমন খেলনা হলে হালকা সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে পারেন।
খেলনার কোণায় ময়লা জমে থাকলে সেগুলোও পরিষ্কার করুন। কোনো খেলনা ধোয়ার উপযোগী না হলে সেটি কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে, তা প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করুন।
কাঠের তৈরি খেলনা সরাসরি পানিতে ভিজিয়ে রাখার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নিন। সাধারণভাবে নরম সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া যায়।
কাপড়ের তৈরি নরম পুতুল বা বই ধোয়ার আগে সেটির লেবেল ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নিন। ধোয়ার পর পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। খেলনার কোনো অংশ ছিঁড়ে গেলে, ভেঙে গেলে বা আলগা হয়ে গেলে সেটি শিশুকে আবার দেওয়ার আগে মেরামত বা সরিয়ে ফেলার বিষয়টি বিবেচনা করুন।
শিশুর মানসিক বিকাশ এবং খেলনার উপযোগিতা নিয়ে মা বাবাদের মনে প্রতিনিয়ত যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়, তার সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন ১: কত বছর বয়স থেকে শিশুর বুদ্ধি বিকাশের খেলনা দেওয়া উচিত?
উত্তর: জন্মের প্রথম মাস থেকেই বয়স উপযোগী খেলনা ও শেখার উপকরণ দেওয়া যায়। নবজাতকের জন্য হাই কনট্রাস্ট ছবি, বয়স উপযোগী নরম খেলনা বা বই দিয়ে শুরু করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাজল, স্ট্যাকিং কাপ ও ব্লকস দেওয়া যেতে পারে। খেলনা সবসময় শিশুর বয়স ও নিরাপত্তার সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচন করতে হবে।
প্রশ্ন ২: মেধা বাড়ানোর জন্য প্লাস্টিক নাকি কাঠের খেলনা বেশি কার্যকর?
উত্তর: শুধু খেলনার উপাদান দেখে কোনটি বেশি কার্যকর বলা যায় না। কাঠ বা প্লাস্টিক দুটিরই ভালো ও নিরাপদ খেলনা পাওয়া যায়। খেলনাটি শিশুর বয়সের উপযোগী কি না, মজবুত কি না এবং শিশুকে নিজের হাতে কিছু করার সুযোগ দেয় কি না এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৩: খেলনা কি সত্যিই শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে পারে?
উত্তর: বয়স উপযোগী পাজল, ব্লক, বই ও অন্যান্য সক্রিয় খেলনা শিশুকে সমস্যা সমাধান, মনোযোগ, হাত চোখের সমন্বয়, ভাষা ও সৃজনশীলতার অনুশীলনের সুযোগ দিতে পারে। মা বাবার সঙ্গে খেললে এই শেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থপূর্ণ হয়।
সন্তানের শৈশবকে সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করে গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রতিটি মা বাবার। শিশু যখন প্রথম কয়েক বছরে পা দেয়, তখন তার চারপাশের সবকিছুকে জানার ও শেখার কৌতূহল অনেক বেশি থাকে। তাই এই সময়ে ঘরে শুধু খেলনার স্তূপ না জমিয়ে, বাচ্চার বয়স ও বিকাশের স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক জিনিসটি নির্বাচন করা প্রয়োজন।
অযথা মোবাইলের স্ক্রিনকে শিশুকে ব্যস্ত রাখার নিয়মিত মাধ্যম না বানিয়ে, তাকে খেলনা, বই, নিরাপদ শারীরিক খেলা এবং মা বাবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিন। আপনার দেওয়া প্রতিটি উপযুক্ত খেলনা শিশুকে চিন্তা করতে, নিজের হাতে কাজ করতে এবং আনন্দের সঙ্গে নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করতে পারে।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
