Cart
No products in the cart.

সন্তান যখন একটু একটু করে বড় হতে থাকে, তখন ঘরের চিরচেনা চারপাশটা তার কাছে এক নতুন রাজ্য হয়ে ওঠে। এই সময় মা বাবাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ঘরের বিপজ্জনক জিনিস থেকে শিশুকে রক্ষা করা। সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে হলে শিশুর ঘর নিরাপদ করার উপায়গুলো আমাদের জানতেই হবে।
বাজারে এখন সহজেই বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় বাচ্চার নিরাপত্তা সামগ্রী পাওয়া যায়। এই গাইডে আমরা আলোচনা করব কীভাবে প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার করে আপনার ঘরকে বাচ্চার জন্য আরও নিরাপদ করে তুলবেন।
Table of Contents
| বেবি প্রুফিংয়ের অঞ্চল | জরুরি সেফটি গিয়ার | মা বাবাদের প্রাথমিক কাজ | গুরুত্বপূর্ণ সেফটি গাইডলাইন |
|---|---|---|---|
| বৈদ্যুতিক প্লাগ ও তার | সকেট কভার ও ক্যাবল অর্গানাইজার | প্লাগ পয়েন্টগুলো উপযুক্ত সকেট কভার দিয়ে ঢেকে রাখা এবং ঝুলন্ত তার শিশুর নাগালের বাইরে রাখা। | শিশুর বয়স ও ঘরের ব্যবহারের সঙ্গে মিলিয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত সেফটি ডিভাইস ব্যবহার করা। |
| আসবাবপত্রের ধারালো কোণা | নরম সিলিকন কর্নার গার্ড | সেন্টার টেবিল ও অন্যান্য আসবাবের ধারালো কিনারা নরম গার্ড দিয়ে সুরক্ষিত করা। | গার্ডটি ঠিকভাবে লাগানো আছে কি না এবং নিয়মিত ব্যবহারে ঢিলা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা। |
| ড্রয়ার, ক্যাবিনেট ও বাথরুম | মাল্টি পারপাস সেফটি লক ও টয়লেট লিড লক | ধারালো জিনিস, ওষুধ ও ক্লিনিং কেমিক্যাল শিশুর নাগালের বাইরে রাখা। বালতির পানি ফেলে রাখা। | শুধু লকের ওপর নির্ভর না করে বিপজ্জনক জিনিস নিরাপদ ও বন্ধ জায়গায় সংরক্ষণ করা। |
| সিঁড়ি, বারান্দা ও জানালা | বেবি গেট, উইন্ডো গার্ড বা উপযুক্ত সেফটি নেট | সিঁড়ির প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করা এবং জানালা ও বারান্দা থেকে শিশুর পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমানো। | জায়গার উপযোগী সেফটি ডিভাইস সঠিকভাবে স্থাপন ও নিয়মিত পরীক্ষা করা। |
সহজ কথায় চাইল্ড প্রুফিং হলো নিজের ঘরকে এমনভাবে সাজানো ও সুরক্ষিত করা, যেন সেখানে একটি ছোট শিশু যতটা সম্ভব নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। অনেক মা বাবা মনে করেন বাচ্চা যখন পুরোপুরি হাঁটা শিখবে, তখন ঘর নিরাপদ করলেই চলবে। এটি একটি ভুল ধারণা।
বাচ্চা হামাগুড়ি দেওয়া, বসা, দাঁড়ানো বা ঘরের জিনিস ধরে চলাফেরা শুরু করার আগেই বেবি প্রুফিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। কারণ শিশু যখন চলাফেরা করতে শেখে, তখন তার কৌতূহলও দ্রুত বাড়তে থাকে। মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট জিনিস, খোলা ড্রয়ার, বৈদ্যুতিক তার বা নিচু আসবাব তখন সহজেই তার নাগালের মধ্যে চলে আসে।
একটু অসাবধান হলেই মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট খেলনা, কয়েন বা অন্য কোনো ছোট বস্তু শিশু মুখে দিয়ে শ্বাসনালিতে আটকে ফেলতে পারে। তাই বাচ্চা ঘরের বিভিন্ন জায়গায় নিজে থেকে পৌঁছানোর আগেই ঘরকে তার জন্য নিরাপদ করে তুলতে হবে।
ঘরকে ভালোভাবে চাইল্ড প্রুফ করার জন্য আপনাকে বাচ্চার চোখ দিয়ে ঘরটিকে দেখতে হবে। একে অনেক সময় ক্রলিং টেস্ট বলা হয়। নিজের লিভিং রুমের মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বা শিশুর কাছাকাছি উচ্চতায় বসে চারপাশটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন।
আপনি দেখতে পাবেন একটি খোলা মাল্টিপ্লাগ, টেবিলের ধারালো কোণা কিংবা একটি নিচু ড্রয়ার, যা আপনার বাচ্চার হাত সহজেই নাগাল পেতে পারে। এই সাধারণ কৌশলটি ঘরের অনেক লুকিয়ে থাকা বিপদ আপনার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে।
বাংলাদেশের অনেক বাসাবাড়িতে দেয়ালের প্লাগ সকেট বা সুইচবোর্ডগুলো মেঝে থেকে এমন উচ্চতায় বসানো থাকে, যা হামাগুড়ি দেওয়া শিশুর নাগালের মধ্যে চলে আসতে পারে। এই নিচু ইলেকট্রিক সকেটগুলো তাই শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বাচ্চাদের একটা সহজাত অভ্যাস হলো যেকোনো ছোট গর্ত বা ছিদ্রের দিকে হাত বাড়ানো। ঘরের খোলা বৈদ্যুতিক সকেটে শিশুর আঙুল বা কোনো ধাতব বস্তু ঢুকে গেলে গুরুতর বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সামান্য একটু অসাবধানতায় ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপদ। এই ঝুঁকি কমাতে শিশুর নাগালের মধ্যে থাকা খোলা সকেটগুলোতে উপযুক্ত ইলেকট্রিক সকেট কভার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সকেট কভারও নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে, যাতে সেটি ঢিলা বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আজকাল প্রতি ঘরেই টিভি, রাউটার, ফ্রিজ বা ওভেনের অসংখ্য তার থাকে। শিশুরা এই তারগুলো ধরে টানাটানি করতে পারে। তার ধরে টান দিলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা তার আশপাশের কোনো জিনিস পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই বিপদ এড়াতে ঘরের সমস্ত আলগা ও ঝুলন্ত তারগুলোকে ক্যাবল অর্গানাইজার বা উপযুক্ত তার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। মাল্টিপ্লাগগুলো মেঝের ওপর খোলা না রেখে নিরাপদ জায়গায় রাখুন এবং অতিরিক্ত তার যেন শিশুর চলাচলের জায়গায় না থাকে তা নিশ্চিত করুন।
শিশু যখন প্রথম দাঁড়াতে বা সোফা ধরে দু এক পা হাঁটতে শেখে, তখন তার শরীরের ভারসাম্য থাকে খুবই নড়বড়ে। এই সময়ে ঘরের ভারী ও কোণাওয়ালা আসবাবপত্রগুলো তার চোট পাওয়ার একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ড্রয়িং রুমের কাঁচের সেন্টার টেবিল, ডাইনিং টেবিলের কিনারা কিংবা খাটের কাঠের ধারালো কোণাগুলো বাচ্চার নাগালের মধ্যে থাকতে পারে। দাঁড়াতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে বাচ্চা সোজা এই কোণাগুলোতে গিয়ে পড়ে যেতে পারে।
এতে মাথা বা শরীরে আঘাত লাগতে পারে। এই ঝুঁকি কমাতে ঘরের ধারালো কোণায় নরম সিলিকন বা ফোমের তৈরি কর্নার গার্ড লাগিয়ে দিতে পারেন। তবে কর্নার গার্ড ব্যবহার করলেও শিশুকে এমন জায়গায় একা রাখা উচিত নয় যেখানে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এটি হোম সেফটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত দিক। শিশুরা যখন একটু আধটু দাঁড়াতে শেখে, তখন তারা নিচু ড্রয়ার টেনে তার ওপর পা দিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করতে পারে। কিংবা বুকশেলফ বা অন্য কোনো ভারী আসবাব ধরে টান দিতে পারে।
এই সময় ভারী ড্রয়ার, আলমারি, বুকশেলফ বা টিভি উল্টে গিয়ে শিশুর ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত করতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টি টিপ ডিভাইস বা অ্যাঙ্কর ব্যবহার করে ভারী ও উঁচু ফার্নিচার দেয়ালের সঙ্গে নিরাপদভাবে স্থির করে রাখা ভালো। এতে আসবাবপত্র উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কমানো যায়।
শিশুর ঘর নিরাপদ করার নিয়মে রান্নাঘরকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই একটি জায়গায় এমন অনেক জিনিস থাকে যা শিশুর জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। কৌতূহলী শিশুরা সুযোগ পেলেই নিচু ক্যাবিনেট খুলে ভেতরে হাত বাড়ায়।
রান্নাঘরের নিচের দিকের ক্যাবিনেটগুলোতে সাধারণত হাড়িপাতিল, কাঁচের বাটি, ধারালো বঁটি, ছুরি বা কাঁচি রাখা হয়। আবার অনেক ঘরে বেসিনের নিচের ড্রয়ারে ঘর মোছার ফিনাইল, হারপিক, ডিটারজেন্ট বা হুইল পাউডার রাখা থাকে।
শিশু যদি ভুল করে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা বড়দের কোনো ওষুধ মুখে দিয়ে দেয়, তবে গুরুতর বিষক্রিয়া বা শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। এই সম্ভাবনা এড়াতে ঘরের সমস্ত ওষুধ এবং ক্লিনিং আইটেম অবশ্যই বাচ্চার নাগালের বাইরে উঁচুতে বা নিরাপদভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে। শুধু একটি সেফটি লকের ওপর নির্ভর না করে বিপজ্জনক জিনিস নিরাপদ জায়গায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিচের ড্রয়ারগুলো যেন কোনোভাবেই বাচ্চা খুলতে না পারে, সেজন্য চাইল্ড সেফটি লকের ব্যবহার করা যেতে পারে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের লক পাওয়া যায়। রেফ্রিজারেটর বা ওভেনের জন্য উপযুক্ত নমনীয় স্ট্র্যাপ লক পাওয়া যায়। কাঠের সাধারণ ড্রয়ারের জন্য ম্যাগনেটিক লক এবং সাধারণ পাল্লার ক্যাবিনেটের জন্য ল্যাচ লকও ব্যবহার করা যায়।
তবে যে লকই ব্যবহার করুন না কেন, সেটি নির্দিষ্ট আসবাবের জন্য উপযুক্ত কি না এবং সঠিকভাবে লাগানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। লক ব্যবহারের পাশাপাশি ওষুধ, রাসায়নিক ও ধারালো জিনিস শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।
বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে বারান্দা আর জানালা হলো মা বাবাদের বড় চিন্তার একটি জায়গা। সামান্য একটু অসাবধানতায় শিশুর পড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশের অনেক অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দার গ্রিলের ফাঁকা অংশগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হামাগুড়ি দেওয়া শিশু অনেক সময় মাথা বা শরীর সেই ফাঁকা দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই শিশুর পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমাতে বারান্দা ও জানালার জন্য উপযুক্ত সেফটি নেট বা অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডুপ্লেক্স বাড়ি বা সিঁড়ির মুখে বাচ্চার যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে উপযুক্ত বেবি গেট ব্যবহার করুন। তবে সিঁড়ির কোথায় গেট বসানো হচ্ছে, তার ওপর গেটের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিঁড়ির ওপরের অংশে এমন গেট বেছে নিতে হবে যা প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই জায়গার জন্য উপযুক্ত এবং শক্তভাবে স্থাপন করা যায়।
জানালার ক্ষেত্রে সাধারণ মশারি বা জানালার স্ক্রিনকে শিশুর নিরাপত্তার গার্ড হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। উপযুক্ত উইন্ডো গার্ড বা উইন্ডো সেফটি ডিভাইস ব্যবহার করা ভালো।
বাথরুমের ভেজা ও পিছল মেঝে বাচ্চার পিছলে পড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এর চেয়েও বড় বিপদ হলো বাথরুমে জমে থাকা পানির বালতি বা টাব। অল্প পানিতেও একটি ছোট শিশু পড়ে গেলে ডুবে যাওয়ার ভয় থাকে।
তাই বাথরুমে কখনোই বালতি বা টাব পানি দিয়ে পূর্ণ করে রেখে যাবেন না। বাথরুমের দরজা সবসময় বন্ধ রাখুন এবং শিশুকে পানির আশপাশে কখনো একা রাখবেন না। কমোডের ঢাকনা আটকে রাখতে একটি উপযুক্ত টয়লেট লিড লকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
অনেক সময় আমরা ঘর নিরাপদ করার জন্য কিছু সস্তা ও অস্থায়ী দেশি বুদ্ধি খাটাই। যেমন, কারেন্টের সকেটের ওপর স্কচটেপ মেরে রাখা, ড্রয়ারের হ্যান্ডেল সুতা বা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা। মা বাবা হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে এই পদ্ধতিগুলো সবসময় নিরাপদ নয়।
শিশুরা যখন কোনো জিনিস বারবার পর্যবেক্ষণ করে, তখন তারা সেটি খোলার চেষ্টাও করতে পারে। স্কচটেপ বা সাধারণ সুতোর বাঁধন শিশুর টানে খুলে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারে কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।
তাছাড়া টেপ বা ছোট কোনো বাঁধন খুলে মেঝেতে পড়ে থাকলে সেটিও শিশুর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাচ্চার নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্থায়ী জোড়াতালির ব্যবস্থা না করে নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি উপযুক্ত সেফটি ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত।
শিশুর ঘর নিরাপদ করার পরেও অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই ধরনের জরুরি মুহূর্তে মা বাবাদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত মাথায় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি ঘরেই তাই একটি প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স বা ফার্স্ট এইড কিট থাকা ভালো।
বাচ্চাদের একটা বড় অভ্যাস হলো মেঝেতে ছোট কিছু পেলেই তা মুখে দেওয়া। ছোট খেলনার অংশ, বোতাম, ব্যাটারি বা কয়েন মুখে দিয়ে গলায় আটকে গেলে শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চোকিং বলা হয়।
শিশু হঠাৎ শ্বাস নিতে, কাঁদতে বা জোরে কাশতে না পারলে সেটি জরুরি পরিস্থিতি হতে পারে। এ অবস্থায় মুখের ভেতরে অন্ধভাবে আঙুল ঢুকিয়ে বস্তু বের করার চেষ্টা করবেন না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন। শিশুদের চোকিং মোকাবিলার প্রাথমিক চিকিৎসা বয়সভেদে আলাদা, তাই মা বাবা ও অভিভাবকদের স্বীকৃত শিশু প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ নেওয়া উপকারী।
পাশাপাশি ঘরের ফার্স্ট এইড বক্সে প্রয়োজনীয় নিচের জিনিসগুলো রাখা যেতে পারে:
বেবি প্রুফিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে কি আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়?
সেফটি লক, কর্নার গার্ড বা অন্য কোনো ডিভাইস লাগানোর আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নিন। আঠাযুক্ত পণ্য খুললে দেয়াল বা ফার্নিচারের পৃষ্ঠে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা পণ্যের উপাদান ও ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। তাই ব্যবহারের আগে ছোট ও কম দৃশ্যমান জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
বাচ্চার কত বছর বয়স পর্যন্ত সেফটি লক ব্যবহার করা উচিত?
এর নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। শিশু কোন ধরনের জিনিস খুলতে বা পৌঁছাতে পারে, তার ওপর নিরাপত্তার প্রয়োজন বদলায়। ওষুধ, পরিষ্কার করার রাসায়নিক, ধারালো জিনিস এবং অন্যান্য বিপজ্জনক জিনিস শিশুর নাগালের বাইরে রাখার অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে।
ভাড়াবাসায় দেয়াল বা কাঠে ড্রিল না করে কীভাবে ঘর বেবি প্রুফ করা যায়?
কিছু সেফটি গিয়ার আঠা বা চাপভিত্তিক ব্যবস্থায় স্থাপন করা যায়। তবে সব জায়গার জন্য একই ধরনের ডিভাইস উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে সিঁড়ি, জানালা ও ভারী ফার্নিচারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ডিভাইস বেছে নেওয়ার সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা এবং স্থাপনের জায়গার ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।
হেলথ ও সেফটি ডিসক্লেইমার: এই সমস্ত তথ্য কেবল অভিভাবকীয় নির্দেশিকা ও সচেতনতার জন্য প্রস্তুতকৃত। কোনো সেফটি গিয়ার বা ডিভাইস ১০০% অভিভাবকীয় নজরদারির বিকল্প নয়। সেফটি ডিভাইস দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু মা বাবার সজাগ দৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। শিশু গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে, বিষাক্ত কিছু গিলে ফেললে বা পুড়ে গেলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বা শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।
ঘরকে শিশুর জন্য নিরাপদ করার অর্থ এই নয় যে আপনি তার স্বাধীনতায় বাধা দিচ্ছেন। বরং সঠিক চাইল্ড প্রুফিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার বাবুকে আত্মবিশ্বাসের সাথে চারপাশটা দেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
বৈদ্যুতিক সকেট ঢেকে দেওয়া, ফার্নিচারের কোণায় গার্ড লাগানো, ভারী আসবাবপত্র স্থির করে রাখা বা ক্যাবিনেটে লক ব্যবহারের মতো ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো আপনার সন্তানকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
