Cart
No products in the cart.

ডাক্তাররা বলেন, জন্মের পর প্রথম ১,০০০ দিন বাচ্চার ব্রেইন ও শরীরের গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়েই বাচ্চার বুদ্ধির আসল ভিত্তি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে বাচ্চার ওজন বাড়ানোর খাবার বাছাই করার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শক্তি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসহ বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।
মজার কথা শুনুন: আপা, আমার বাচ্চাটা একদম শুকনা, কিছুই গায়ে লাগে না! – বাংলাদেশের নতুন মায়েদের আড্ডায় এই এক দুশ্চিন্তার কথা সারাক্ষণ শোনা যায়। পাড়ার প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজন যখন বলে, “বাচ্চাটা এত লিকলিকে কেন, ঠিকমতো খেতে দাও না?” তখন মায়েদের মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই কথার প্রভাবে পড়ে অনেক মা বাটি হাতে বাচ্চার পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছোটেন, জোর করে মুখে খাবার গুঁজে দেন।
তবে আমাদের একটা বিষয় খুব ঠান্ডা মাথায় বুঝতে হবে। বাচ্চার শুধু বাহ্যিক গোলগাল চেহারা বা ওজন বাড়ানোই কিন্তু শেষ কথা নয়। একই সাথে তার মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ বা বুদ্ধি বাড়ানোটাও সমান জরুরি। শুকনা একটা বাচ্চা যদি সারাদিন চটপটে থাকে, ঠিকমতো খেলাধুলা করে, তবে তাকে অসুস্থ বলা যাবে না।
মনে রাখবেন, প্রতিটি বাচ্চার শরীরের গঠন আলাদা। পাশের বাড়ির বাচ্চার সাথে নিজের বাচ্চার তুলনা করে অযথা মানসিক চাপে ভুগবেন না। আপনি যদি বাচ্চার সঠিক পুষ্টির দিকে নজর দেন, তবে সুস্থ উপায়ে বাচ্চার ওজন ও বুদ্ধি দুটোই বাড়ানো সম্ভব। আসুন জেনে নিই সেই সহজ উপায়গুলো।
Table of Contents
| বাচ্চার বয়স | প্রধান সুপারফুড | এটি কীভাবে সাহায্য করে |
| ০ থেকে ৬ মাস | শুধু মায়ের বুকের দুধ | শিশুর রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করে। |
| ৬ থেকে ১২ মাস | পাকা কলা, ডিমের কুসুম, মিষ্টি আলু | বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে। |
| ১ থেকে ৩ বছর | বাদাম গুঁড়ো, ওটস, ঘি, সামুদ্রিক মাছ | ফ্যাট, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে, যা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। |
অনেক মা বাবাই মনে করেন বাচ্চা একদম গোলুমোলু হওয়া মানেই সে সুপার হেলদি। চিকিৎসা বিজ্ঞান কিন্তু এই ধারণাকে সমর্থন করে না। অতিরিক্ত চর্বি জমিয়ে বাচ্চা মোটা করা আর সুস্থ রাখা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত বাচ্চার একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজন নিশ্চিত করা, যা তার মেধার বিকাশকে সচল রাখবে।
আজকাল বাজারের দোকানে হরেক রকমের চিনিযুক্ত প্যাকেটজাত সিরিয়াল বা চিপস পাওয়া যায়। মায়েরা ভাবেন এগুলো দামি, তাই হয়তো পুষ্টি বেশি। এগুলো খাওয়ালে বাচ্চা হয়তো দ্রুত ফুলে ফেঁপে মোটা হতে পারে। কিন্তু এতে বাচ্চার ব্রেইনের ভেতরের পুষ্টি একদমই হয় না। উল্টো বাচ্চার স্বাভাবিক খিদে নষ্ট হয়ে যায়।
শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাটসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি। ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবার, ডিমের কুসুম, খাঁটি ঘির মতো জিনিসই হলো এই সুস্থ ফ্যাটের আসল উৎস। বাজারের চিপস বা চিনিযুক্ত খাবার বাচ্চার শরীর ফুলিয়ে দিলেও ভেতরে ভেতরে তাকে দুর্বল করে দেয়।
বাচ্চার আইকিউ (IQ) এবং মনোযোগ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিছু বিশেষ উপাদানের দরকার হয়। এগুলোকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস বলা হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলো আয়রন, জিঙ্ক এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড।
এই উপাদানগুলো বাচ্চার মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সতেজ রাখে। বাচ্চার পড়ালেখা বা যেকোনো নতুন জিনিস শেখার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে যেন এই উপাদানগুলো থাকে, তা নিশ্চিত করা মা বাবার দায়িত্ব।
বাচ্চার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় নিচের ১০টি সুপারফুড রাখলে তার ওজন ও বুদ্ধি দুটোই চমৎকারভাবে বাড়বে। প্রতিটা খাবারের পুষ্টিগুণ এবং খাওনোর নিয়ম নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
ডিমের কুসুমকে পুষ্টির পাওয়ারহাউজ বলা হয়। ডিমে কোলিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
শিশু যখন প্রায় ৬ মাস বয়সে বাড়তি খাবার শুরু করে, তখন বয়স ও খাওয়ার উপযোগিতা অনুযায়ী ভালোভাবে রান্না করা ডিম অল্প পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে। প্রথমবার দেওয়ার পর কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন।
ওজন বাড়ানোর জন্য পাকা কলার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশে বারো মাসই এই ফলটি খুব কম দামে পাওয়া যায়। এতে আছে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং কার্বোহাইড্রেট।
এটি কার্বোহাইড্রেটসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে এবং বয়স অনুযায়ী নরম করে শিশুকে খাওয়ানো সহজ। পাকা কলা ভালো করে চামচ দিয়ে চটকে বা হাত দিয়ে ম্যাশ করে খুব সহজেই বাচ্চাকে খাওয়ানো যায়। বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলেও এটি সাথে রাখা সহজ।
মিষ্টি আলু বাচ্চার জন্য খুবই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু একটি খাবার। এর মিষ্টি স্বাদের কারণে বাচ্চারা এটি বেশ পছন্দ করে খায়। এতে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং প্রচুর ফাইবার।
ভিটামিন এ বাচ্চার চোখের জ্যোতি ভালো রাখে। আর এর ভেতরে থাকা ফাইবার বাচ্চার হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাচ্চার পেট পরিষ্কার থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না এবং বাচ্চার স্বাভাবিক খিদে খোলে। এটি সেদ্ধ করে সামান্য ঘি দিয়ে চটকে দেওয়া যায়।
খাঁটি ঘি খাবারে অতিরিক্ত শক্তি ও ফ্যাট যোগ করতে পারে। এতে থাকা মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি এসিড বাচ্চার শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
বাচ্চার বয়স ৬ মাস পার হওয়ার পর যখন সে ঘরের শক্ত খাবার শুরু করবে, তখন তার খিচুড়ি, সুজি বা ম্যাশ করা আলুর সাথে হাফ চা চামচ ঘি মিশিয়ে দিন। এর চমৎকার সুগন্ধ বাচ্চার খাবারের প্রতি রুচিও বাড়িয়ে দেবে অনেকখানি। তবে খেয়াল রাখবেন ঘি যেন খাঁটি হয়।
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম ও আখরোট, এই বাদামগুলো মেধা ও ওজন বাড়াতে সেরা হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে আস্ত বাদাম ছোট বাচ্চার গলায় আটকে যাওয়ার বড় ভয় থাকে।
তাই বাচ্চার বয়স ১ বছর হওয়ার পর বিভিন্ন বাদাম হালকা ভেজে ব্লেন্ডারে বা পাটায় পিষে গুঁড়ো করে নিন। এই নাট পাউডার বাচ্চার দুধ, সুজি, ওটস বা খিরের সাথে ১ চামচ মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। এটি খাবারের পুষ্টিগুণ এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ওটস হলো সহজে হজমযোগ্য জটিল কার্বোহাইড্রেটের একটি দারুণ উৎস। অনেক বাচ্চা ভারী খাবার যেমন পোলাও চালের খিচুড়ি সহজে হজম করতে পারে না। তাদের জন্য ওটস খুব ভালো ও হালকা খাবার। এটি বাচ্চার পেটে অনেকক্ষণ থাকে এবং সারাদিন এনার্জি বা শক্তি দিয়ে তাকে সচল রাখে।
ওটস ভালো করে সেদ্ধ করে তার সঙ্গে পাকা কলা বা অন্যান্য বয়স উপযোগী খাবার মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুর খাবারে বিভিন্ন পুষ্টি ও ফাইবার যোগ হয়।
বাচ্ছাদের ওজন বাড়াতে আমাদের দেশে সুজি ও সাগুর বেশ চল আছে। তবে বাজারের কেনা রেডিমেড প্যাকেটজাত সুজিতে অনেক সময় নানা রাসায়নিক বা প্রিজারভেটিভ থাকতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ঘরে তৈরি গমের সুজি ব্যবহার করেন।
সাগুদানা ভালো করে ধুয়ে, পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নিন। এরপর এর সাথে সামান্য মিষ্টি ফল (যেমন পাকা আম বা কলা) মিশিয়ে খাওয়ালে বাচ্চার শরীর ঠান্ডা থাকে, পেট ভরে এবং সুস্থ উপায়ে ওজনও বাড়ে।
বাচ্চার বয়স ৭ থেকে ৮ মাস পার হলে তার শরীরে মায়ের বুক থেকে পাওয়া আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সময়ে বাচ্চার রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতে কলিজা ও মুরগির মাংসের জুড়ি নেই। মুরগির মাংস ও কলিজা হলো ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন এবং আয়রনের খুব বড় উৎস।
সপ্তাহে দুই তিন দিন বাচ্চার খিচুড়িতে মুরগির নরম মাংস বা কলিজা সেদ্ধ করে ভালো করে ম্যাশ করে মিশিয়ে দিন। এটি বাচ্চার শরীরের পেশি শক্ত করে এবং তাকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।
অনেক বাচ্চার কষা পায়খানা বা পেটের সমস্যা থাকে। পেট পরিষ্কার না থাকলে বাচ্চার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং সে একদমই কিছু খেতে চায় না। পাকা পেঁপে ও সেদ্ধ গাজর বাচ্চার পেটের এই সমস্যা দূর করে লিভারকে সুস্থ রাখে।
গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন বাচ্চার শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ তে রূপান্তর হয়। পেটের সমস্যা দূর হলে এবং লিভার ভালো থাকলে বাচ্চার মুখের রুচি নিজে থেকেই ফিরে আসে। তখন বাচ্চা আগ্রহ নিয়ে খাবার খায়।
বাচ্চার বয়স ১ বছর পার হওয়ার পর তাকে ডালিম বা বেদনার রস দেওয়া শুরু করতে পারেন। ডালিমের রসে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বাচ্চার মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে। একই সাথে এটি বাচ্চার শরীরে হিমোগ্লোবিন বা রক্তের মাত্রা ঠিক রাখে।
ডালিমের দানাগুলো চিপে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে শুধু রসটুকু বাচ্চাকে খাওয়ান। এটি বাচ্চার ভেতরের ক্লান্তি দূর করে এবং তাকে সারাদিন হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত রাখে।
ব্যস্ত মায়েদের জন্য ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে ঝটপট তৈরি করা যায় এমন একটি পুষ্টিকর রেসিপি নিচে দেওয়া হলো। এটি বাচ্চার ওজন ও বুদ্ধি বাড়াতে দারুণ কাজ করবে।
কড়া সতর্কতা:
বাচ্চার ওজন বাড়ানোর তাড়াহুড়োয় অনেক নতুন মা বাবাই একটি বড় ভুল করে বসেন। মনে রাখবেন, ১ বছরের নিচের শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়। গরুর দুধও ১২ মাসের আগে প্রধান পানীয় হিসেবে দেওয়া উচিত নয়। শিশুর বাড়তি খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি না দেওয়াই ভালো। শিশুর বয়স অনুযায়ী নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় খাবার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক সময় দেখা যায় মায়েরা বাটি হাতে বাচ্চার পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছোটেন। জোর করে খাওয়াতে গেলে বাচ্চা খাবারের প্রতি ভয় ও জেদ তৈরি করে। বাচ্চাকে জোর না করে আনন্দের সাথে টেবিলে বসিয়ে খাওনোর জন্য কিছু আধুনিক ও নিরাপদ জিনিস ব্যবহার করা উচিত।
এই বাটিগুলোর নিচে একটি বিশেষ সাকশন কাপ থাকে, যা টেবিল বা মেঝের সাথে শক্ত করে আটকে থাকে। ফলে বাচ্চা হাত দিয়ে ধাক্কা দিলেও বাটি ওল্টাতে পারে না বা খাবার পড়ে যায় না। এর নরম সিলিকন চামচটি বাচ্চার কোমল মাড়ির জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, কোনো আঘাত লাগার ভয় থাকে না।
বাচ্চাকে আস্ত ফল দিলে গলায় আটকে যাওয়ার বড় ভয় থাকে। সিলিকনের এই চোষক বা নিবলারের ভেতর পাকা কলা, আপেল বা আঙুরের টুকরো দিয়ে মুখ আটকে দিন। বাচ্চা নিজের হাতে এটি ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে রস খাবে। এতে বাচ্চার মাড়ির চুলকানিও কমবে আর কোনো ভয়ের কারণও থাকবে না।
যেকোনো ফল বা সেদ্ধ সবজি ঝটপট ম্যাশ করার জন্য এটি একটি চমৎকার হাইজেনিক টুল। ইলেকট্রিক ব্লেন্ডার ব্যবহারের ঝামেলা ও ধোয়াধোয়ির কষ্ট ছাড়াই হাত দিয়ে চেপে খুব সুন্দর পেস্ট তৈরি করা যায়। এটি খাবারের ভেতরের পুষ্টিগুণ ও ফাইবার বজায় রাখে।
বাচ্চারা নিজে নিজে খেতে গেলে সব খাবার জামাকাপড়ে ফেলে নোংরা করে ফেলে। এই water proof বিবের নিচে একটি বড় পকেট থাকে। ফলে উপর থেকে পড়ে যাওয়া খাবার এই পকেটে আটকে যায়। এতে ঘর ও জামা দুটোই পরিষ্কার থাকে এবং মায়ের কষ্ট কমে।
খাবারের মাঝে মাঝে বাচ্চার অল্প অল্প পানি পানের অভ্যাস করানো জরুরি। এই নিরাপদ চুমুক কাপ বা সিপার দিয়ে বাচ্চা খুব সহজেই নিজে নিজে পানি পানের নিয়ম শিখে যায়। এটি Leak Proof হওয়ায় পানি গড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে না।
সব পুষ্টিকর খাবার খাওনোর পরেও অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চার ওজন একদমই বাড়ছে না। এর পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে যা মা বাবারা খেয়াল করেন না।
বাচ্চার পেটে যদি কৃমি থাকে, তবে তা তার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।। ফলে ভালো ভালো খাবার খাওয়ালেও তা বাচ্চার শরীরে লাগে না। বাচ্চার বয়স ১ বছর পার হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়ম মেনে বাচ্চাকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত।
খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভির মতো স্ক্রিন ব্যবহার করলে শিশুর মনোযোগ খাবারের বদলে স্ক্রিনে চলে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে শিশুকে শান্ত পরিবেশে, স্ক্রিন ছাড়া খাওয়ানোর অভ্যাস করা ভালো।
ঘুমের মধ্যেই বাচ্চার শরীরের প্রধান গ্রোথ হরমোনগুলো রিলিজ বা নিঃসৃত হয়। রাতে যে বাচ্চা ঠিকমতো ঘুমায় না, তার শরীর ক্লান্ত থাকে। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাচ্চার রাতে জলদি ঘুমানোর অভ্যাস করা জরুরি।
প্রশ্ন ১: বাজারের কেনা সেরিল্যাক খাওয়ালে কি বাচ্চার ওজন দ্রুত বাড়ে?
উত্তর: বাজারের প্যাকেটজাত শিশুখাদ্য ব্যবহার করলে পণ্যের উপাদান, বয়সসীমা ও পুষ্টির তথ্য দেখে নির্বাচন করুন। শিশুর খাবারে বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ, তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে বয়স অনুযায়ী ঘরে তৈরি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও দেওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন ২: বাচ্চার রুচি বাড়ানোর জন্য কি কোনো ভিটামিন সিরাপ দেওয়া যাবে?
উত্তর: চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাকে কোনো ধরনের ভিটামিন বা রুচির সিরাপ দেওয়া একদমই উচিত নয়। প্রাকৃতিক পুষ্টিকর খাবার, সঠিক সময় মেইনটেইন করা এবং জোর করে না খাওয়ালে বাচ্চার রুচি এমনিতেই ফিরে আসবে।
প্রশ্ন ৩: ডিমের সাদা অংশ বাচ্চাকে কখন থেকে দেওয়া যাবে?
উত্তর: শিশু প্রায় ৬ মাস বয়সে বাড়তি খাবার শুরু করার পর ভালোভাবে রান্না করা ডিম বয়স অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে। প্রথমবার অল্প পরিমাণে দিয়ে শিশুর কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। অ্যালার্জির সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, প্রতিটি বাচ্চার বৃদ্ধির গতি সম্পূর্ণ আলাদা। কোনো বাচ্চা একটু আগে মোটাসোটা হয়, আবার কেউ একটু পরে বাড়ে। তাই পাশের বাসার বাচ্চার সাথে তুলনা করে নিজের মন খারাপ করবেন না। বাচ্চার কৃত্রিম ওজন বাড়ানোর চেয়ে সে কতটা একটিভ (Active), চটপটে ও হাসিখুশি থাকছে, সেটাই বড় বিষয়। ধৈর্য ধরুন এবং আপনার সোনামণির জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ লাইফস্টাইল নিশ্চিত করুন।
অনুরোধ: এই আর্টিকেলে দেওয়া বাচ্চার ওজন বাড়ানোর উপায় এবং খাবারের তালিকাটি সম্পূর্ণ সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক শিশু পুষ্টি গাইডলাইন মেনে তৈরি করা হয়েছে। তবে প্রতিটি বাচ্চার শরীরের গঠন, হজমক্ষমতা এবং অ্যালার্জির ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা। তাই বাচ্চার খাবারে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে, বা বাচ্চার ওজন নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হলে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড শিশু বিশেষজ্ঞ (Pediatrician) বা সার্টিফাইড শিশু পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। কোনো নির্দিষ্ট খাবারে বাচ্চার অ্যালার্জি বা অস্বস্তি দেখা দিলে তা খাওয়ানো তাৎক্ষণিক বন্ধ করুন।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ