Cart
No products in the cart.

মা হওয়া প্রতিটি নারীর জীবনে এক অনন্য অনুভূতি। তবে বাচ্চাকে প্রথমবার বুকের দুধ খাওয়ানোর শুরুটা সবসময় খুব সহজ হয় না। অনেক নতুন মা প্রথম দিকে ফ্ল্যাট নিপল, ইনভার্টেড নিপল কিংবা নিপল ফেটে যাওয়ার মতো ব্যথাদায়ক সমস্যার মুখোমুখি হন। বাচ্চার ক্ষুধার কান্না আর নিজের স্তনের ব্যথা সব মিলিয়ে মায়েরা মানসিকভাবে চাপ অনুভব করতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে শিশুকে সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়াতে যে টুলটি সহায়ক হতে পারে, তা হলো নিপল শিল্ড। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বাচ্চার ল্যাচ ও দুধ পাওয়ার পরিমাণে সমস্যা হতে পারে। তাই নিপল শিল্ড ব্যবহার করার আগে এর সঠিক ব্যবহার, সাইজ নির্বাচন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত – এসব জানা জরুরি। এই বিস্তারিত গাইডে আমরা সিলিকন নিপল শিল্ডের সঠিক ব্যবহার, সাইজ নির্বাচন এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করব।
Table of Contents
| ব্যবহারের কারণ | সঠিক উপাদান | প্রধান নিয়ম | স্টোরেজ ও হাইজিন |
|---|---|---|---|
| ফ্ল্যাট/ইনভার্টেড নিপল বা কিছু প্রি ম্যাচুর বেবির ল্যাচে সমস্যা | পাতলা, নমনীয় সিলিকন | সঠিকভাবে নিপল ও এরিওলার ওপর বসানো | ব্যবহারের আগে ও পরে পরিষ্কার করা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী জীবাণুমুক্ত করা |
| নিপল ফেটে যাওয়া বা ব্যথা হলে | নরম সিলিকন | সঠিক ল্যাচ নিশ্চিত করে ব্যবহার করা | প্রতিবার ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকিয়ে রাখা |
| বাচ্চার ল্যাচিংয়ে সমস্যা হলে | উপযুক্ত মাপের ফ্লেক্সিবল সিলিকন | বাচ্চার ঠোঁট যেন শিল্ডের গোড়ার অংশে ভালোভাবে থাকে | পরিষ্কার ও শুকনো পাত্রে সংরক্ষণ করা |
অনেক মা প্রথমবার এই জিনিসটি দেখে কিছুটা ঘাবড়ে যান। ভাবেন এটি ব্যবহার করলে বাচ্চার কোনো ক্ষতি হবে না তো? আসুন খুব সহজ ভাষায় এর গঠন এবং কাজের পদ্ধতি জেনে নিই।
এটি দেখতে মূলত একটি ছোট্ট টুপির মতো। সাধারণত এটি পাতলা, নমনীয় সিলিকন দিয়ে তৈরি এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের নিপল ও এরিওলার ওপর বসানো হয়। সঠিকভাবে বসানো হলে শিশুকে স্তনে ল্যাচ করতে সহায়তা করতে পারে।
নিপল শিল্ড সরাসরি মায়ের নিপলের বিকল্প নয়। এটি মূলত শিশুর ল্যাচ সহজ করতে একটি পাতলা স্তর হিসেবে কাজ করে। সঠিকভাবে বসানো শিল্ডের গোড়ার অংশে শিশুর ঠোঁট ও মুখ ভালোভাবে লাগতে হয়, যাতে শিশু শুধু শিল্ডের ডগা না চুষে স্তনের পর্যাপ্ত অংশসহ ভালোভাবে ল্যাচ করতে পারে।
শিশু ঠিকভাবে চুষতে পারলে শিল্ডের মাধ্যমে দুধ মুখে আসতে পারে। তবে শিল্ড ব্যবহার করলেই দুধ সহজে বা বেশি পরিমাণে আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই শিশুর দুধ পাওয়া, ওজন বৃদ্ধি এবং মায়ের স্তন নরম হওয়া বা দুধ বের হওয়ার বিষয়গুলো নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন মায়েদের অনেকেরই ভুল ল্যাচিংয়ের কারণে নিপল ব্যথা বা ফেটে যাওয়ার সমস্যা হয়। কিছু ক্ষেত্রে নিপল শিল্ড শিশুকে ল্যাচ করতে এবং মায়ের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে শিল্ড ব্যবহারের পাশা পাশি শিশুর অবস্থান ও ল্যাচ ঠিক আছে কি না, সেটিও অবশ্যই দেখা দরকার।
সব মায়ের কিন্তু নিপল শিল্ড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। কিছু নির্দিষ্ট সমস্যায় এটি সাময়িকভাবে সহায়ক হতে পারে। প্রয়োজনে ল্যাকটেশন কনসালট্যান্ট বা চিকিৎসকের সহায়তায় ব্যবহার করা ভালো।
সব নারীর স্তনের গঠন এক রকম নয়। অনেকের স্তনবৃন্ত স্বাভাবিকভাবেই চ্যাপ্টা বা ভেতরের দিকে থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিপল শিল্ড শিশুকে স্তনে ল্যাচ করতে সাহায্য করে।
তবে ইনভার্টেড নিপল থাকলেই শিল্ড ব্যবহার করতেই হবে এমন নয়। অনেক শিশুই সরাসরি স্তনে ভালোভাবে ল্যাচ করতে পারে। তাই শিশুর ল্যাচ ও মায়ের আরাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
সময়ের আগে জন্মানো বা দুর্বল শিশুর সরাসরি স্তনে ল্যাচ করে দুধ টানতে সমস্যা হতে পারে। পাতলা সিলিকন নিপল শিল্ড শিশুকে স্তনে ল্যাচ করতে সহায়তা করে এবং দুধ গ্রহণ সহজ করতে পারে।
তবে প্রি ম্যাচুর শিশুর ক্ষেত্রে নিজের মতো করে শিল্ড শুরু না করে চিকিৎসক বা ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় শিশুর দুধ পাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধির বিষয়টি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।
বাচ্চা যদি স্তন সঠিকভাবে মুখে না নেয়, তাহলে মায়ের নিপলে ব্যথা বা ফাটল তৈরি হতে পারে। কিছু মায়ের ক্ষেত্রে নিপল শিল্ড সাময়িকভাবে অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে।
তবে নিপল ফেটে যাওয়ার মূল কারণ যদি ভুল ল্যাচ বা পজিশন হয়, তাহলে শুধু শিল্ড ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। শিশুর ল্যাচ ঠিক করাও জরুরি। ব্যথা চলতে থাকলে বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কিছু শিশুর জিহ্বা বা ঠোঁটের নড়াচড়া সীমিত থাকায় স্তনে সঠিকভাবে ল্যাচ করা এবং দুধ টানতে সমস্যা হয়। টাং টাই বা লিপ টাইয়ের কারণে শিশুর ল্যাচ দুর্বল হলে নিপল শিল্ড শিশুকে স্তনবৃন্ত ধরে দুধ খেতে সহায়তা করতে পারে।
বাজারে গেলেই ইচ্ছেমতো যেকোনো একটা নিপল শিল্ড কিনে আনা ঠিক নয়। ভুল মাপের শিল্ড ব্যবহার করলে মায়ের অস্বস্তি এবং শিশুর ল্যাচ বা দুধ পাওয়ার বিষয়েও সমস্যা হতে পারে।
শিল্ড খুব ছোট হলে নিপলে চাপ বা ঘর্ষণ তৈরি হয়। আবার খুব বড় বা ভুল আকৃতির হলে শিশুর মুখে সঠিকভাবে বসতে সমস্যা হয়।
শুধু নিপলের ব্যাস মেপে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ২-৩ মিমি যোগ করলেই সঠিক সাইজ পাওয়া যাবে এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শিল্ডের আকার ও মাপ আলাদা হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রস্তুতকারকের সাইজ গাইড অনুসরণ করুন। শিল্ড পরার পরও যদি অস্বস্তি, ব্যথা বা শিশুর ল্যাচে সমস্যা থাকে, তাহলে ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বাজারে বিভিন্ন মাপের নিপল শিল্ড পাওয়া যায়। তবে সাইজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু মায়ের নিপলের ব্যাস নয়, শিল্ড পরানোর পর সেটি আরামদায়কভাবে বসছে কি না এবং শিশুর মুখে সঠিক ল্যাচ হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্ড পরানোর পর নিপলে অতিরিক্ত ঘর্ষণ, ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে সেটি সঠিক মাপ নাও হতে পারে।
শুধু মায়ের নিপলের আকার দেখে শিল্ড নির্বাচন করলেই হবে না। শিশুর মুখে শিল্ডটি কীভাবে বসছে সেটিও দেখতে হবে।
শিশুর ঠোঁট যেন শিল্ডের সমতল গোড়ার অংশের ওপর ভালোভাবে থাকে এবং শিশু যেন শুধু সরু ডগাটি চুষে না খায়। ল্যাচ নিয়ে সন্দেহ থাকলে একজন ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে ফিডিং সেশন পর্যবেক্ষণ করানো ভালো।
নিপল শিল্ড ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট টেকনিক আছে। শুধু স্তনের ওপর বসিয়ে দিলেই কিন্তু এটি সঠিকভাবে কাজ করবে না। আসুন একদম সহজ ৪টি ধাপে নিয়মটি জেনে নিই।
বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে হাত সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। নিপল বা স্তনের চারপাশ অতিরিক্ত সাবান, অ্যালকোহলযুক্ত ওয়াইপস বা সুগন্ধিযুক্ত পণ্য দিয়ে বারবার পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। কোনো চিকিৎসাগত কারণে বিশেষ পরিষ্কারের নির্দেশনা না থাকলে স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতাই যথেষ্ট।
শিল্ডটি স্তনে বসাতে অসুবিধা হলে পরিষ্কার পানির সামান্য আর্দ্রতা ব্যবহার করা যেতে পারে। নিজের বুকের দুধের কয়েক ফোঁটাও শিল্ডের ভেতরে লাগানো যায়। তবে শিল্ডকে শক্তভাবে আটকে রাখার জন্য কোনো আঠা বা বিশেষ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
এটিই শিল্ড বসানোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। শিল্ডের ডগা প্রায় ভেতরের দিকে উল্টে নিয়ে সেটিকে নিপলের ওপর কেন্দ্রে রাখুন। এরপর শিল্ডের পাশের অংশ বা ডানাগুলো আলতো করে ছেড়ে দিন।
শিল্ডটি যেন নিপলকে চেপে না ধরে এবং আরামদায়কভাবে বসে থাকে। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা থাকলে সেটিও অনুসরণ করুন।
এবার বাচ্চাকে এমনভাবে কোলে নিন যাতে তার মাথা, ঘাড় ও শরীর একই সরল রেখায় থাকে এবং সে সহজে স্তনের দিকে মুখ করতে পারে।
নিপল শিল্ডের খোলা অংশটি সাধারণত বাচ্চার নাকের দিকে রাখা হয়। শিশুর মুখ বড় করে খোলার অপেক্ষা করুন এবং তাকে শিল্ডের ডগা নয়, গোড়ার সমতল অংশসহ স্তনের পর্যাপ্ত অংশ মুখে নিতে সাহায্য করুন।
সঠিক ল্যাচ হলে শিশুর চোষা ও গিলতে থাকা বোঝা যাবে এবং মায়ের অতিরিক্ত ব্যথা হওয়ার কথা নয়।
নিপল শিল্ড মায়েদের জন্য উপকারী, আবার ভুলভাবে ব্যবহার করলে কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই এটিকে সবার জন্য প্রয়োজনীয় বা দীর্ঘদিন ব্যবহারের টুল হিসেবে না দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা ভালো।
নিপল শিল্ড ব্যবহার করলেই মায়ের দুধ কমে যাবে এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিল্ডের প্রভাব সব মায়ের ক্ষেত্রে এক রকম নয়। কিছু পরিস্থিতিতে শিল্ড ব্যবহারের কারণে দুধ স্থানান্তর কমতে পারে, আবার ব্যথাযুক্ত নিপল থাকা মায়েদের ক্ষেত্রে কিছু গবেষণায় দুধ উৎপাদন বা দুধ স্থানান্তরে নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি।
তবে শিল্ড ব্যবহারের কারণে যদি শিশু পর্যাপ্ত দুধ না পায় বা স্তন ভালোভাবে খালি না হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে দুধের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুর ওজন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত প্রস্রাব, দুধ গেলার শব্দ এবং ফিডিংয়ের সামগ্রিক অগ্রগতি নজরে রাখা জরুরি। শিশুর দুধ পাওয়া নিয়ে সন্দেহ থাকলে ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
নিপল শিল্ড মূলত একটি সাময়িক সহায়ক টুল। দীর্ঘদিন শিল্ড ব্যবহার করলে কিছু শিশু সরাসরি মায়ের স্তনে ল্যাচ করার বদলে শিল্ডেই অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে পরে শিল্ড ছাড়া সরাসরি স্তনে ফিরিয়ে আনতে বাড়তি সময় ও চেষ্টা লাগতে পারে।
তাই শিল্ড ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুকে ধীরে ধীরে সরাসরি স্তনে ল্যাচ করার সুযোগ দিন। শিশুর ল্যাচ ভালো হলে এবং শিল্ড ছাড়াই দুধ খেতে পারলে ধীরে ধীরে শিল্ডের ব্যবহার কমিয়ে আনুন।
তবে শুধু নির্দিষ্ট কয়েক সপ্তাহ বা মাস হয়ে গেছে বলে জোর করে শিল্ড বন্ধ করার দরকার নেই। শিশুর দুধ খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি ঠিক থাকলে মায়ের জন্য আরামদায়ক উপায়ে ধীরে ধীরে সরাসরি স্তনে ফেরানোর চেষ্টা করাই ভালো।
নিপল শিল্ড পরিষ্কার না রাখলে দুধের অবশিষ্টাংশ জমে থাকতে পারে এবং অপরিষ্কার ফিডিং ইকুইপমেন্ট এর মতো এটিতেও জীবাণু জমার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর এটি ভালোভাবে পরিষ্কার, শুকানো এবং জীবাণুমুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মায়ের স্তনে তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব, জ্বর বা শিশুর মুখে সাদা দাগের মতো সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু শিল্ড পরিষ্কার করলেই হবে না, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফিডিং এক্সেসরিজ পাওয়া যায়। সেগুলো কেনার আগে পণ্যের উপাদান, প্রস্তুতকারকের তথ্য এবং ব্যবহারের নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
1. Ultra Thin Medical Grade Silicone Nipple Shields: পাতলা ও নমনীয় সিলিকন নিপল শিল্ড শিশুকে স্তনে ল্যাচ করতে সহায়তা করতে পারে।
2. Organic Cracked Nipple Healing Butter: ব্রেস্টফিডিংয়ের শুরুতে নিপল ফেটে যাওয়া, শুষ্কতা বা ব্যথার কারণে মায়েদের দুধ খাওয়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই নিপল বাটারটি ফাটা ও শুষ্ক নিপলে আরাম দিতে এবং ত্বককে ময়েশ্চারাইজ রাখতে ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত ব্যবহারে নিপলের শুষ্কতা কমাতে এবং ত্বককে নরম রাখতে এটি সহায়ক।
3. Electric Multi Functional Shield & Bottle Sterilizer: নিপল শিল্ড, ফিডিং বোতল ও অন্যান্য ফিডিং এক্সেসরিজ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে স্টেরিলাইজার ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে নিয়মিত ব্রেস্টফিডিং ও বোতল ফিডিংয়ের সময় একসঙ্গে একাধিক ফিডিং সামগ্রী পরিষ্কার রাখতে এটি বেশ সুবিধাজনক।
4. Plant Based Baby Liquid Cleanser: নিপল শিল্ড ও শিশুর অন্যান্য ফিডিং এক্সেসরিজ পরিষ্কার করার জন্য মাইল্ড লিকুইড ক্লেনজার ব্যবহার করা যায়। শিল্ডের ভেতর ও বাইরের অংশে জমে থাকা দুধের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে এটি সহজ ও কার্যকর উপায়। পরিষ্কার করার পর অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে কোনো ক্লেনজারের অবশিষ্টাংশ না থাকে।
বাচ্চার জন্য ব্যবহৃত নিপল শিল্ডের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনো রকম আপস করা উচিত নয়। প্রতিবার ব্যবহারের পর সঠিকভাবে পরিষ্কার করা এবং শুকিয়ে সংরক্ষণ করা জরুরি।
বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো শেষ হওয়ার পর শিল্ডটি খুলে পরিষ্কার করুন। প্রথমে পরিষ্কার পানি দিয়ে শিল্ডের ভেতর ও বাইরের অংশে থাকা দুধের অবশিষ্টাংশ ধুয়ে ফেলুন। এরপর মাইল্ড লিকুইড সাবান বা বেবি ক্লেনজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
শিল্ড পরিষ্কার করার জন্য শক্ত ডিটারজেন্ট বা ঘষে পরিষ্কার করার মতো উপকরণ ব্যবহার করার দরকার নেই।
শিল্ডের ভেতরের অংশেও দুধের অবশিষ্টাংশ লেগে থাকতে পারে। তাই শুধু বাইরে ধুয়ে ফেললেই হবে না। মাইল্ড লিকুইড সাবান বা উপযুক্ত বেবি ক্লেনজার দিয়ে ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
পরিষ্কার করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। শিল্ডে সাবান বা ক্লেনজারের কোনো অবশিষ্টাংশ থাকা উচিত নয়।
নিপল শিল্ড প্রথম ব্যবহারের আগে জীবাণুমুক্ত করা উচিত। এরপর নিয়মিত ব্যবহারের সময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতি শিল্ডের উপাদান এবং ব্যবহারের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
স্টেরিলাইজার ব্যবহার করলে শিল্ডটি সেই পদ্ধতির জন্য উপযোগী কি না নিশ্চিত করে ব্যবহার করুন। ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য, শিল্ড ফুটানো উপযোগী হলে তবেই ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।
অর্থাৎ, প্রতিদিন নির্দিষ্ট ৩-৫ মিনিট ফুটাতেই হবে, এমন একটি নিয়ম সব নিপল শিল্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। শিল্ডের উপাদান ও ব্যবহারের উপযোগী জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে।
পরিষ্কার করার পর শিল্ডটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। পুরোপুরি শুকানোর পর পরিষ্কার ও শুকনো কেস বা পাত্রে রাখুন।
ভেজা শিল্ড বন্ধ পাত্রে রেখে দেবেন না। এতে ভেতরে আর্দ্রতা জমে থাকতে পারে। পরিষ্কার ও শুকনো অবস্থায় সংরক্ষণ করলে শিল্ডটি পরবর্তী ফিডিংয়ের জন্যও স্বাস্থ্যকর থাকে।
নিপল শিল্ড অনেক মায়ের জন্য সাময়িক সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে। শিশুর ল্যাচ ভালো হয়ে গেলে এবং সরাসরি স্তনে দুধ খেতে পারলে ধীরে ধীরে শিল্ডের ব্যবহার কমিয়ে আনা যায়।
এক্ষেত্রে সবার জন্য নির্দিষ্ট ৩-৪ সপ্তাহ বা নির্দিষ্ট কয়েক মাসের সময়সীমা নেই। শিশুর ল্যাচ, দুধ খাওয়ার পরিমাণ, ওজন বৃদ্ধি এবং মায়ের আরাম, এই বিষয়গুলো দেখে শিল্ড ছাড়ানোর সময় ঠিক করা ভালো।
দুধ খাওয়ানোর সময় এবং অন্য সময়েও নিরাপদভাবে স্কিন টু স্কিন কন্টাক্ট রাখুন। শিশুকে মায়ের বুকের কাছে রাখলে সে স্তনের গন্ধ, উষ্ণতা ও স্পর্শের সঙ্গে পরিচিত থাকে। সরাসরি স্তনে ল্যাচ করানোর চেষ্টার আগে এই ঘনিষ্ঠতা শিশুকে শান্ত ও প্রস্তুত রাখতে সাহায্য করে।
প্রথমে শিল্ড ব্যবহার করে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো শুরু করুন। দুধের প্রবাহ ভালোভাবে শুরু হলে এবং শিশু শান্তভাবে চুষতে থাকলে শিল্ডটি সরিয়ে সরাসরি স্তনে ল্যাচ করানোর চেষ্টা করুন।
শিশু ভালোভাবে ল্যাচ করতে পারলে সরাসরি স্তনেই ফিডিং চালিয়ে যান। কিন্তু শিশু বিরক্ত হয়ে গেলে বা ল্যাচ ঠিক না হলে জোর করবেন না। প্রয়োজনে আবার শিল্ড ব্যবহার করে ফিডিং শেষ করুন এবং পরেরবার আবার চেষ্টা করুন।
শিশু খুব বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে কান্না শুরু করার আগেই সরাসরি স্তনে ল্যাচ করানোর চেষ্টা করুন। শান্ত ও স্বস্তিতে থাকা অবস্থায় শিশুকে স্তনে ধরানো তুলনামূলক সহজ হয়।
প্রথম কয়েকবার সরাসরি স্তনে ল্যাচ করতে না পারলেও হতাশ হওয়ার দরকার নেই। ধীরে ধীরে চেষ্টা চালিয়ে যান এবং শিশুর দুধ খাওয়া ঠিক আছে কি না সেটি নজরে রাখুন।
প্রশ্ন ১: নিপল শিল্ড কি ২৪ ঘণ্টা পরে থাকা যাবে?
উত্তর: না। নিপল শিল্ড বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের জন্য। ফিডিং শেষ হলে এটি খুলে পরিষ্কার ও শুকিয়ে রাখুন। দীর্ঘ সময় স্তনে লাগিয়ে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন ২: নিপল শিল্ড কত দিন পর পর পরিবর্তন বা বদলে ফেলা উচিত?
উত্তর: সব নিপল শিল্ড ১-২ মাস পরপর পরিবর্তন করতে হবে, এমন কোনো সার্বজনীন নিয়ম নেই। শিল্ডে ফাটল, ছিঁড়ে যাওয়া, আঠালো হয়ে যাওয়া, আকৃতি পরিবর্তন বা অন্য কোনো ক্ষতি দেখা দিলে সেটি পরিবর্তন করুন। শিল্ডটি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও নির্দিষ্ট ব্যবহারের সীমা থাকলে সেই সময় অনুযায়ী নতুন শিল্ড ব্যবহার করুন।
প্রশ্ন ৩: ভুল সাইজের নিপল শিল্ড ব্যবহার করলে কী ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: ভুল সাইজের শিল্ড নিপলে চাপ বা ঘর্ষণ তৈরি করতে পারে এবং শিশুর সঠিকভাবে ল্যাচ করতে সমস্যা হতে পারে। এর ফলে ফিডিং অস্বস্তিকর হওয়ার পাশাপাশি শিশু পর্যাপ্ত দুধ নাও পেতে পারে।
শিল্ড পরার পর নিপলে ব্যথা, অতিরিক্ত ঘর্ষণ বা শিশুর দুর্বল ল্যাচ দেখা দিলে সাইজ ও ল্যাচিং পদ্ধতি ঠিক করা জরুরি।
প্রশ্ন ৪: নিপল শিল্ড ব্যবহার করলে কি বাচ্চার পেট ভরে?
উত্তর: হ্যাঁ, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিপল শিল্ডের মাধ্যমে শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ পেতে পারে। তবে শুধু শিল্ড পরানো হয়েছে কি না, এটা দেখে শিশুর দুধ পাওয়া নিশ্চিত করা যায় না।
শিশু দুধ গিলে খাচ্ছে কি না, পর্যাপ্ত প্রস্রাব করছে কি না এবং নিয়মিত ওজন বাড়ছে কি না, এসব দেখে বোঝা যায় সে পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি না। শিশুর দুধ পাওয়া নিয়ে সন্দেহ হলে ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞ বা শিশুর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মেডিকেল ডিসক্লেইমার: নিপল শিল্ড একটি সহায়ক breastfeeding tool, যা ল্যাচের সমস্যা, ফ্ল্যাট বা ইনভার্টেড নিপল, নিপল ব্যথা কিংবা কিছু শিশুর ফিডিং সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। তবে শিশুর ওজন না বাড়া, দুধ কম পাওয়ার লক্ষণ, বারবার ল্যাচের সমস্যা বা মায়ের তীব্র নিপল ব্যথা থাকলে ল্যাকটেশন কনসালট্যান্ট, বা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
ব্রেস্টফিডিং করানোর এই সুন্দর জার্নিতে নিপল শিল্ড কিছু নতুন মায়ের জন্য একটি সহায়ক টুল। বিশেষ করে ল্যাচের সমস্যা, ফ্ল্যাট বা ইনভার্টেড নিপল কিংবা নিপল ব্যথার মতো পরিস্থিতিতে এটি মাকে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।
তবে নিপল শিল্ডের সঠিক সাইজ, সঠিক ল্যাচ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিল্ড ব্যবহার করলেই মায়ের দুধ কমে যাবে এমন কথা যেমন ঠিক নয়, তেমনি শিল্ড ব্যবহার করলেই সব ধরনের ব্রেস্টফিডিং সমস্যার সমাধান হবে এটিও ঠিক নয়।
শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি না, তার ওজন ঠিকভাবে বাড়ছে কি না এবং মা ফিডিংয়ের সময় স্বস্তিতে আছেন কি না, এই বিষয়গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিপল শিল্ড একজন মায়ের জন্য সত্যিই কার্যকর একটি সহায়ক হতে পারে।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
