Cart
No products in the cart.

বাংলাদেশের তীব্র গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় আমাদেরই যেখানে অস্বস্তি হয়, সেখানে ছোট বাচ্চাদের কষ্টটা আরও বেশি হতে পারে। গরমের দিন শুরু হলেই অনেক শিশুর কোমল ত্বকে ছোট ছোট লাল গুটি বা হিট র্যাশ দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে মিলিয়ারিয়া (Miliaria) বা হিট র্যাশ বলা হয়।
বাচ্চার শরীরে এমন গুটি দেখলে বাবা মায়ের দুশ্চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় বাচ্চার ঘামাচি দূর করার উপায় খুঁজতে গিয়ে এমন কিছু ব্যবহার করা হয়, যা উল্টো বাচ্চার ত্বকের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত পাউডার, সুগন্ধিযুক্ত পণ্য বা মোটা তেলজাতীয় কিছু ব্যবহার করার আগে একটু সতর্ক হওয়া দরকার।
তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো – বাচ্চার ঘামাচি কেন হয়, কীভাবে ঘামাচি কমানো যায়, কোন অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলা ভালো এবং কখন শিশুকে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।
Table of Contents
গরমে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে নিচের বিষয়গুলো একনজরে দেখে নিতে পারেন।
| প্রধান বিষয় | যা করতে পারেন | যা এড়িয়ে চলবেন |
|---|---|---|
| ঘামাচির মূল কারণ | অতিরিক্ত গরম ও ঘামের কারণে ঘামগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া | শিশুকে অতিরিক্ত গরমে বা অনেক স্তরের পোশাকে রাখা |
| ঘামাচি হলে | শরীর ঠান্ডা রাখা, পাতলা সুতি পোশাক পরানো | টাইট বা গরম পোশাক পরানো |
| ত্বকের যত্ন | ঠান্ডা ভেজা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে সেঁক দেওয়া | সরাসরি বরফ ঘষা বা ত্বক রগড়ানো |
| পণ্য ব্যবহারে | প্রয়োজন হলে শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য সম্পর্কে চিকিৎসক/ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া | ভারী তেল, মোটা অয়েন্টমেন্ট বা অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার |
| ডাক্তার দেখাবেন | পুঁজ, ছড়িয়ে পড়া লালভাব, জ্বর, খাওয়ায় অনীহা বা অবস্থা খারাপ হলে | দীর্ঘদিন ঘরে বসে নিজে নিজে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া |
গরমে বাচ্চার ত্বক পরিচর্যার জন্য হালকা, শিশুবান্ধব পোশাক ও প্রয়োজনীয় স্কিন কেয়ার পণ্য বেছে নেওয়া যায়। তবে কোনো পণ্যকে “অর্গানিক” বা “কেমিক্যাল মুক্ত” বলা হচ্ছে কি না, তার চেয়ে শিশুর ত্বকে সেটি উপযোগী কি না এবং উপাদানগুলো কী সেটা দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বড়দের মতো বাচ্চাদেরও ঘামাচি হতে পারে। তবে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি বেশ সাধারণ, বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়। ঘামগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে ত্বকের নিচে ঘাম আটকে গেলে এই ধরনের ছোট ছোট গুটি বা ফোসকার মতো দানা দেখা দিতে পারে।
বাচ্চাদের ঘামাচি সাধারণত ঘাড়, বুক, পিঠ, ত্বকের ভাঁজ বা ডায়াপার এলাকার আশপাশে দেখা যেতে পারে। বেশি গরম, অতিরিক্ত কাপড়, টাইট পোশাক বা দীর্ঘ সময় এমন জায়গায় থাকা যেখানে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে না – এসব কারণে সমস্যা বাড়তে পারে।
ঘামাচির মূল কারণ হলো ঘামগ্রন্থির নালী বন্ধ হয়ে যাওয়া। তখন ঘাম স্বাভাবিকভাবে ত্বকের উপরিভাগে বের হতে না পেরে ত্বকের নিচে আটকে যায়। এর ফলে ছোট ছোট গুটি, লালচে দানা বা কখনো ক্ষুদ্র পানিভরা ফোসকার মতো দেখা দিতে পারে।
নবজাতক ও ছোট বাচ্চাদের ঘামাচি হওয়ার প্রবণতা বেশি, কারণ তারা বড়দের মতো শরীরের তাপমাত্রা সবসময় ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় তাই তাদের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ঘামাচি সবসময় একই রকম দেখতে হয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মিলিয়ারিয়ার কয়েকটি ধরন রয়েছে।
মিলিয়ারিয়া ক্রিস্টালিনা: ত্বকের একদম উপরের স্তরে ঘাম আটকে গেলে খুব ছোট, স্বচ্ছ পানিভরা ফোসকার মতো দানা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এতে তীব্র চুলকানি বা অস্বস্তি থাকে না।
মিলিয়ারিয়া রুব্রা: এটি পরিচিত “প্রিকলি হিট” বা সাধারণ লাল ঘামাচির একটি ধরন। ছোট লাল গুটি ও চুলকানি বা খোঁচা লাগার মতো অনুভূতি হতে পারে। শিশুর অস্থিরতা বা কান্নার কারণও হতে পারে।
মিলিয়ারিয়া প্রোফুন্ডা: এটি তুলনামূলকভাবে ত্বকের গভীরে হয় এবং সাধারণ ঘামাচির তুলনায় কম দেখা যায়।
বাবা মায়ের জন্য প্রতিটি ধরন আলাদা করে চেনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুকে ঠান্ডা রাখা, ঘাম কমানো এবং র্যাশের অবস্থা নজরে রাখা।
সাধারণ ঘামাচির ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুর শরীর ঠান্ডা রাখা এবং অতিরিক্ত ঘাম বন্ধ করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর জন্য খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন হয় না।
তীব্র গরমে বাচ্চাকে পাতলা, ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক সুতি পোশাক পরিয়ে রাখুন। পোশাক এমন হওয়া ভালো যাতে ত্বকের সঙ্গে বাতাস চলাচল করতে পারে।
খুব টাইট পোশাক, অতিরিক্ত কাপড় বা এমন পোশাক যা শরীরের তাপ আটকে রাখে এসব এড়িয়ে চলুন। ঘামাচির সময় অতিরিক্ত কাপড় পরিয়ে শিশুকে আরও গরম করে ফেলা ঠিক নয়।
ঘামাচির জায়গায় ঠান্ডা পানিতে ভেজানো নরম কাপড় কিছুক্ষণ আলতো করে ধরে রাখতে পারেন। সরাসরি বরফ ত্বকে ঘষার দরকার নেই। ঠান্ডা ভেজা কাপড়ই অনেক সময় ত্বকের অস্বস্তি কমাতে যথেষ্ট।
বাচ্চাকে গোসল করানোর সময় খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। আর গোসলের পর ত্বক, বিশেষ করে ঘাড়, বগল ও শরীরের ভাঁজগুলো আলতো করে শুকিয়ে নিন।
ঘামাচির সময় বারবার সাবান বা কড়া ক্লিনজার ব্যবহার করারও প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত পরিষ্কার করতে গিয়ে ত্বকে আরও জ্বালা তৈরি হতে পারে।
বাচ্চা ঘেমে গেলে খসখসে তোয়ালে দিয়ে ঘষে শরীর মুছবেন না। নরম সুতি কাপড় দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে ঘাম মুছে দিন।
ঘরের পরিবেশও আরামদায়ক রাখুন। ফ্যান বা এসি ব্যবহার করলে বাতাস যেন খুব ঠান্ডা বা অস্বস্তিকর না হয় এবং শিশুর শরীরে জোরে সরাসরি না লাগে। লক্ষ্য হবে শিশুকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচানো। AAP ও গরমের সময় ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করে শিশুকে ঠান্ডা রাখার কথা বলে।
ঘামাচি হলেই অ্যালোভেরা, নিমপাতা, ডাবের পানি বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগানোকে নিরাপদ চিকিৎসা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে নবজাতক ও খুব ছোট বাচ্চার ত্বকে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ঘামাচির মূল চিকিৎসা হলো শিশুকে ঠান্ডা রাখা, ঘাম কমানো এবং ত্বককে পরিষ্কার ও শুকনো রাখা।
আমাদের পরিবারে বাচ্চা ঘেমে গেলে পাউডার ব্যবহার করার অভ্যাস অনেক পুরোনো। আবার অনেক পরিবারে গরমেও শিশুর গায়ে তেল মালিশ করা হয়। কিন্তু ঘামাচি থাকলে এসব অভ্যাস নিয়ে একটু সতর্ক হওয়া দরকার।
ঘামাচি হলে মূল লক্ষ্য হলো ত্বক ঠান্ডা ও পরিষ্কার রাখা। তাই ঘামাচির ওপর পাউডার ঢেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে ট্যালকম পাউডারের গুঁড়ো শিশুর শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে গেলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। American Academy of Pediatrics শিশুদের জন্য বেবি বা ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়।
তাই ঘামাচি হলে “আরও পাউডার দিলে ত্বক শুকিয়ে যাবে” এমন ধারণার বদলে শিশুকে ঠান্ডা রাখা এবং ঘাম কমানোর দিকে মনোযোগ দিন।
ঘামাচির জায়গায় মোটা তেল বা ভারী অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলে ঘামগ্রন্থির মুখ আরও বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং র্যাশ বাড়তে পারে। AAP ও ঘামাচির জায়গায় মোটা, চিটচিটে অয়েন্টমেন্ট না লাগানোর পরামর্শ দেয়।
তাই গরমে ঘামাচি উঠলে সরিষার তেল বা অন্য কোনো ভারী তেল দিয়ে র্যাশ ঢেকে দেওয়ার বদলে শিশুর ত্বক ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখাই ভালো।
বাংলাদেশের গরমের সঙ্গে অনেক সময় উচ্চ আর্দ্রতাও থাকে। ফলে ঘাম হওয়ার পর তা সহজে শুকাতে চায় না। এই অবস্থায় শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় পরানো বা বদ্ধ গরম ঘরে রাখলে ঘামাচি আরও বাড়তে পারে।
বাচ্চাকে এসিতে রাখলেই অসুস্থ হয়ে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়। গরমের সময় আরামদায়ক ঘরের পরিবেশ তৈরি করতে ফ্যান বা এসি ব্যবহার করা যেতে পারে। মূল বিষয় হলো শিশুকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া এবং সরাসরি খুব ঠান্ডা বাতাস না লাগানো।
AAP ঘামাচির ক্ষেত্রে ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করে শিশুকে ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেয়।
বাইরে বের হলে শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় বা মোটা চাদরে ঢেকে রাখবেন না। স্ট্রলার বা কার সিটে এমন অতিরিক্ত কভার ব্যবহার করাও ঠিক নয়, যা ভেতরে বাতাস চলাচল কমিয়ে দেয় এবং শিশুকে আরও গরম করে ফেলে।
সঙ্গে একটি অতিরিক্ত পাতলা সুতি জামা ও নরম কাপড় রাখতে পারেন। বাচ্চা ঘেমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় বদলে দিন এবং শরীরের ভাঁজগুলো শুকনো রাখুন।
ঘামাচির সময় শিশুর ত্বকে যত বেশি পণ্য ব্যবহার করা হবে, তত ভালো বিষয়টি এমন নয়। বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্রিম, তেল বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করলে ঘামাচি বাড়তে পারে।
ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় মোটা, চিটচিটে ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো। এগুলো ঘামগ্রন্থির মুখ বন্ধ করে র্যাশ বাড়াতে পারে।
তবে শিশুর পুরো শরীরে আলাদা কোনো ত্বকের সমস্যা বা শুষ্কতা থাকলে কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত, তা শিশুর ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী ঠিক করতে হবে। শুধু গরমকাল বলে সব ধরনের লোশন বা ক্রিম একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকে কড়া সুগন্ধিযুক্ত ক্রিম, লোশন বা অন্য কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। এগুলো কিছু শিশুর ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি বাড়াতে পারে। NHS ও হিট র্যাশের ক্ষেত্রে সুগন্ধিযুক্ত ক্রিম বা বডি প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
শিশুর কোনো স্কিন কেয়ার পণ্য কেনার সময় শুধু “প্যারাবেন মুক্ত” লেখা আছে কি না দেখার চেয়ে পুরো উপাদান তালিকা, শিশুর বয়সের উপযোগিতা এবং ত্বকে ব্যবহার করলে কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না এসব বিষয়ও দেখুন।
বাচ্চার ঘাড়, বগল, কনুইয়ের ভাঁজ, ঊরুর ভাঁজ এবং ডায়াপার এলাকার আশপাশে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে থাকতে পারে। এসব জায়গায় তাই বাড়তি নজর দেওয়া দরকার। AAP ঘামাচির সময় ঘাম বা লালা জমে থাকা ত্বকের ভাঁজগুলো পরিষ্কার ও ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেয়।
অনেক মা বাবাই ডায়াপার এলাকার ঘামাচি আর ডায়াপার র্যাশের পার্থক্য নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। ঘামাচিতে সাধারণত ছোট ছোট গুটি বা দানা দেখা যায় এবং এটি ঘাড়, বুক, পিঠ, ত্বকের ভাঁজসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। অন্যদিকে ডায়াপার র্যাশ সাধারণত ডায়াপারের সংস্পর্শে থাকা জায়গায় বেশি দেখা যায়। তবে সব র্যাশ দেখতে একই রকম হয় না, তাই শুধু দেখে নিশ্চিতভাবে রোগের নাম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আমার নিজেরও এ বিষয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞতা ছিল না। আমার মেয়ের ছোটবেলার কথা মনে করলে একটা বিষয় বেশ মনে পড়ে। গরমে যখন ওর ঘামাচি উঠত, তখন ওর দাদিকে দেখতাম অনেক সময় বাচ্চাকে ন্যাড়া করে দিতেন। গোসলের পর শরীরে পাউডারও দিতেন , তখনকার সময়ে এগুলো বেশ স্বাভাবিক একটা পারিবারিক অভ্যাসই ছিল।
আর একটা বিষয় নিয়ে আমি মাঝে মাঝে নিজেই কনফিউজড হয়ে যেতাম, বাচ্চার গায়ে যেটা হয়েছে সেটা ঘামাচি, নাকি ডায়াপার র্যাশ। তবে ওর মা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারত কোনটা কী। তখন বুঝেছি, শুধু লাল দেখালেই সেটাকে ঘামাচি বা ডায়াপার র্যাশ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথায় হয়েছে, দেখতে কেমন এবং সময়ের সঙ্গে সেটা কীভাবে বদলাচ্ছে এসবও খেয়াল করা দরকার।
আমার মেয়ের ডায়াপার র্যাশ হলে অবশ্য আমি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ডায়াপার র্যাশের অয়েনমেন্ট ব্যবহার করেছিলাম এবং ভালো ফল পেয়েছিলাম। তবে অন্য বাচ্চার ক্ষেত্রেও একই পণ্য একইভাবে কাজ করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে ছোট বাচ্চার র্যাশ নিয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ছোট বাচ্চারা দুধ খাওয়ার সময় বা পরে লালা কিংবা দুধ গড়িয়ে গলার ভাঁজে জমাতে পারে। তার সঙ্গে ঘাম যুক্ত হলে ওই জায়গায় আর্দ্রতা ও ঘর্ষণ বেড়ে ত্বকে লালভাব বা জ্বালা তৈরি হতে পারে।
তাই বাচ্চার গলার ভাঁজ, বগল ও ঊরুর চিপা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করে শুকনো রাখুন। তবে খুব জোরে ঘষবেন না। কোনো জায়গা বারবার লাল হচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে, ফেটে যাচ্ছে বা অন্য ধরনের র্যাশ তৈরি হচ্ছে – তাহলে সেটাকে শুধু ঘামাচি ধরে নিয়ে ঘরে বসে চিকিৎসা না করাই ভালো।
সাধারণ ঘামাচি শিশুকে ঠান্ডা রাখা ও অতিরিক্ত ঘাম কমানোর মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যে কমে যেতে পারে। তবে র্যাশের চেহারা বদলে গেলে, বাড়তে থাকলে বা শিশুর শরীর খারাপের অন্য লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। AAP বলছে, পুঁজ, জ্বর, খাওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া বা শিশুর স্বাভাবিকের তুলনায় কম সক্রিয় হয়ে পড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। র্যাশ তিন দিনের মধ্যে না কমলেও পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান:
বিশেষ করে খুব ছোট শিশুর জ্বর বা র্যাশের সঙ্গে অসুস্থতার অন্য লক্ষণ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।
বাচ্চার ঘামাচিতে কি বরফ সরাসরি ঘষা যাবে?
না। সরাসরি বরফ ঘষার প্রয়োজন নেই। ঘামাচির অস্বস্তি কমাতে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো নরম কাপড় আলতো করে ধরে রাখতে পারেন। প্রয়োজন হলে কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা প্যাকও ব্যবহার করা যায়, তবে শিশুর ত্বকে সরাসরি বরফ লাগাবেন না।
ঘামাচি দূর করতে কি নিমপাতা বা ডাবের পানি ব্যবহার করা নিরাপদ?
নিমপাতা, ডাবের পানি বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান ঘামাচির প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে নবজাতক ও খুব ছোট বাচ্চার ত্বকে নতুন কোনো উপাদান লাগানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
গরমে বাচ্চাকে দিনে কতবার গোসল করানো যাবে?
ঘামাচি হলে শুধু ঘাম পরিষ্কার করার জন্য বারবার সাবান দিয়ে গোসল করানোর দরকার নেই। শিশুর আরাম ও ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী গোসল করাতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে ঠান্ডা ভেজা নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন।
অতিরিক্ত সাবান বা বারবার ধোয়া ত্বকে শুষ্কতা ও জ্বালা বাড়াতে পারে। তাই পরিষ্কার রাখার সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক আরামও বজায় রাখা দরকার। শীতকালে নবজাতক শিশুর যত্ন ও গোসলের নিয়ম সম্পর্কিত আমাদের এই গাইডটি দেখে নিতে পারেন।
হেলথ ও সেফটি ডিসক্লেইমার: এই নিবন্ধের তথ্য অভিভাবকদের সাধারণ সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর র্যাশ দ্রুত বাড়লে, পুঁজ হলে, জ্বর এলে, খাওয়ার পরিমাণ কমে গেলে বা বাচ্চাকে অসুস্থ মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গরমে বাচ্চার ঘামাচি হলে প্রথমেই ভয় পাওয়ার দরকার নেই। বেশিরভাগ সাধারণ ক্ষেত্রে শিশুকে অতিরিক্ত গরম থেকে দূরে রাখা, পাতলা ও ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরানো, ঘাম কমানো এবং ত্বকের ভাঁজগুলো পরিষ্কার ও শুকনো রাখা এই সাধারণ যত্নগুলোই সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
ঘামাচি হলেই পাউডার, তেল, ক্রিম বা নানা ঘরোয়া উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে ট্যালকম পাউডার ও ভারী তেলজাতীয় পণ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি লাল গুটি ঘামাচি নয়। তাই র্যাশ দেখতে অস্বাভাবিক হলে, দ্রুত বাড়লে বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ থাকলে নিজের মতো করে চিকিৎসা না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

শাখাওয়াত আহমেদ বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেবি কেয়ার ই কমার্স প্ল্যাটফর্ম BD SNAP এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিগত ৩ বছর ধরে শিশুর নিরাপদ যত্ন এবং পুষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। মা বাবাদের কাছে শতভাগ নিরাপদ ও খাঁটি বেবি প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
